দেশে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার না থাকায় এবারের ঈদও সার্বজনীন, আনন্দঘন ও অর্থবহ হয়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

গতকাল মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নং বাংগাখাঁ ইউনিয়ন ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিয়ন আমীর মাওলানা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জহির আহমদ আনসারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুরে শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের আমীর মাওলনা নূর মোহাম্মদ রাসেল, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের সুপরিনটেনডেন্ট আবদুল আজিজ রিয়াদ ও চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার শাহ আলম। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, নতুন সরকারের কাছে বুকভরা আশা নিয়ে এবার দেশের মানুষ ঈদ আনন্দ উদযাপনের প্রস্ততি নিয়েছিলো। কিন্তু সরকারের উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণে তাদেরকে আশাহত হতে হয়েছে। পথে পথে চাঁদাবাজী, টিকিটের অতিমাত্রায় উচ্চমূল্য ও পরিবহন সঙ্কটে ঈদ যাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিলো একেবারে চরমে। মূলত, সরকার ঈদযাত্রা জনগণের জন্য নির্বিঘœ করতে পারেনি। সড়কমন্ত্রী যাত্রীদের জন্য টিকিটের মূল্য স্বাভাবিক এবং ক্ষেত্র বিশেষে কম বলে দাবি করলেও বাস্তবতার সাথে সে দাবির কোন সঙ্গতি ছিলো না বরং ঘরমুখো মানুষের ৪ থেকে ৫ গুণ অধিক মূল্যে পরিবহন টিকিট কিনতে হয়েছে। তিনি সরকারকে কথামালার ফুলঝুড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সকল ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর মনে করা হয়েছিলো দেশে আইনের শাসন ও সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ফিরে আসবে। জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিবাদ হওয়ার সুপ্ত বাসনা থেকেই আমাদের সকল অর্জন বিফলে যেতে চলেছে।

এমনকি সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্রয়েই ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন করে ফ্যাসিবাদ মাথাচাঁরা দিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারের প্রতিভূরা এখন বেশ সক্রিয়। তাই আগামী দিনের ঈদকে অর্থবহ, আনন্দঘন ও সার্বজনীন করতে এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় জাতি কাউকে ক্ষমা করবে।