ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম ) সংবাদদাতা : সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভূরুঙ্গামারী উপজেলাতেও সরকারি ভাবে সরাসরি ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর (ডিজিটাল ) মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু মাঠ পর্যায় সরকারি এই ‘কৃষক অ্যাপ’ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নেই অনেক কৃষকের। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় কৃষকদের সাথে । তাদের ভাষ্য, এখনো গ্রামের অনেক কৃষকের সরকারি এই অ্যাপ বিষয়ে নেই কোন ধারণা। আবার কেউ জানেন না কীভাবে আবেদন করতে হয়। কোন কোন কৃষক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারের এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান কেনার কথা শুনে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন ইরি-বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা । যাতে প্রতিমণ ধানের মূল্য ১হাজার ৪৪০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষকদের ভোগান্তি ও অনিয়ম ঠেকাতে ২০১৯ সালে এই অ্যাপ চালু করে খাদ্য বিভাগ। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর পর পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করে সরকার।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪১ মেট্রিক টন। আর সরকারি ভাবে ধান ক্রয় করা হবে ১ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন।

জানা যায়, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড দিয়ে সেই কৃষক অ্যাপে নিজের জমির তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষক কার্ডের তথ্য, ও সচল মোবাইল দিয়ে আবেদন করত হবে। পরে এই সব তথ্য যাচাই করে উপজেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচিত কৃষক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন ধান সরবরাহের তারিখ । নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারবেন।

এবিষয়ে অনেক কৃষক দাবি করেন, সরকারি কৃষকের অ্যাপ সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।

আর অনেক কৃষকের নাই স্মার্টফোন । এছাড়াও অ্যাপে নিবন্ধন জটিলতা, সার্ভার সমস্যার কারণে সরকারি মূল্েয ধান বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।