ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার ধুনটে নাই শব্দের অন্তরালে আগুন লেগেছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোলে। উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি না মেনেই ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ন্যায্য দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানীর গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল (দাহ্য পদার্থ)। বিভিন্ন দোকানে বা দাহ্য পদার্থ বিক্রয় কেন্দ্রে নাই শব্দের তকমা দিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল। হিমশিম খাচ্ছে মোটরসাইকের আরোহীরা। কথাও কথাও ২/৩ ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে পাচ্ছেন মাত্র ১ লিটার পেট্রোলে। এটা কি কৃত্রিম সংকট? এমনটাই ভাবছেন সাধারন মানুষসহ অনেকে।
অধিকাংশ দোকানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নেই ফায়ার সার্ভিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। আইনের তোয়াক্কা না করে এসব গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল যত্রতত্র বিক্রির ফলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন সংকটকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে সিলিন্ডার গ্যাস ও পেট্রোল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধুনট বাজার, পেঁচিবাড়ি, দিঘলকান্দি, বিশ্বহরিগাছা, পাঁচথুপী, ভূবনগাতি, যুগিগাঁতি চারমাথা, মথুরাপুর, পীরহাটি তালতলা, সাগাটিয়া, কাশিয়াহাটা, ছাতিয়ানী, খাটিয়ামারী, গোপালনগর, গোসাইবাড়ি, নলডাঙ্গা, এলাঙ্গী, কান্তনগর, সোনাহাটা ও জোরশিমুল বাজারসহ উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের অধিকাংশ বাজারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পত্র ছাড়াই বিভিন্ন মুদি দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান, ওষুধের দোকান ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-নীতি না মেনে দোকানের সামনে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় ও অস্থায়ী দোকানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সিলিন্ডার গ্যাস মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বোতলে ভরে পেট্রোল বিক্রির ঘটনাও ঘটছে প্রকাশ্যে। এতে নেই কোনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ফলে সামান্য অসতর্কতা থেকেই ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকা-।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ব্যবসায়ীদের অনেকেরই নেই বৈধ ট্রেড লাইসেন্স। আবার যাদের লাইসেন্স রয়েছে, তাদের অনেকেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।