ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হরিণাকুন্ডু উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হরিনাকুন্ডু উপজেলা আমীর বাবুল হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে একজনের মৃত্যু হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফল, এর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে এ ধরনের কর্মকা-ের নিন্দা জানানো হয়।
জামায়াত নেতারা বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হলে তা অনাকাক্সিক্ষত হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অন্যায় হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলে দল হিসেবে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা আমির বাবুল হোসাইন বলেন, যেহেতু ঘটনাটি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের ফল, তাই স্থানীয়ভাবে সামাজিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা তাজুল ইসলাম, নেতা ছগির আহমেদ, ইদ্রিস আলী, শফিউদ্দিন, যুব বিভাগের সেক্রেটারি কামরুল হাসান ও শামীম মিয়া। পরিশেষে, নিহত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে স্থানীয় শহীদ সদর উদ্দিন প্রাইমারি স্কুল মাঠে জানাযার নামাজ শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।