বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শাহজাহান বলেন, বিজাতীয় আগ্রাসন থেকে মুসলমানদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শাহ সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভীর নেতৃত্বে বালাকোট আন্দোলন ছিল এক আপসহীন সংগ্রাম। বদর-উহুদ, খায়বারের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি ঈমান-আকীদা, ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের সুরক্ষা সর্বোপরি আল্লাহর দ্বীনের ঝান্ডাকে উচ্চকিত করার এ সংগ্রামে ১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটের ময়দানে এক অসম যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করেন। বালাকোটের এই ঘটনার মধ্য দিয়েই ভারতে মুসলমানগণ আজাদী আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথক আবাসভূমি লাভে উজ্জীবিত হন। তাই বালাকোটের সেই যুদ্ধ স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস, চেতনার স্মারক।বালাকোটের যুদ্ধ ইসলামী পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তাই ঐতিহাসিক বালাকোটের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে হক ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও বাতিল শক্তির মোকাবিলায় আমাদের সংগ্রামী প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।

গতকাল বুধবার বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ বাংলাদেশ ইসলামিক একাডেমি (বিআইএ) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বালাকোটের ত্যাগ, কুরবানী ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। বালাকোটের যুদ্ধ নিছক একটি যুদ্ধ ছিলো না বরং তা ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্ব টিকে থাকার ক্ষেত্রে এক নিরন্তর সংগ্রাম। বালাকোটের যুদ্ধ মুজাহেদীনের আত্মদানের স্মৃতি, ঘুমিয়ে থাকা মুসলিম সমাজের আবারো জিহাদের পথ দেখানো মুক্তি সংগ্রামের এক সুমহান আলোকবর্তিকা।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ফ্যাসীবাদের পতন হলেও আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় এখনো আসেনি বরং বিজয়ের পথচলা সবে শুরু হয়েছে। কারণ, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন করে সরকার আসলেও জুলাই শহীদের আকাঙ্খা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে রায় দিয়েছে, কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করছে। জুলাই শহীদদে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহানগরী এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোছাইন, কোতোয়ালি থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, চকবাজার থানা সেক্রেটারি সাদুর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।

এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বালাকোটের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদেরকে বাংলাদেশে দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হবে। এটা ছিল ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন। এটা নব প্রজন্মের মাঝে চর্চা করতে হবে। শাহাদাতের তামান্না ছাড়া ঈমানকে মজবুত রাখা সম্ভব নয়।