স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ গাজীপুরের টঙ্গীর হাজির মাজার বস্তি এলাকায় মাদকের আখড়া উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির জেরে বিক্ষোভ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত বিষয়টি বুঝিয়ে বললে আন্দোলনকারীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান। এতে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাজির মাজার বস্তির কিছু বাসিন্দা টঙ্গী বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে বিআরটি ফ্লাইওভারে উঠে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশে অবস্থান নেয়। এ সময় ‘ভাত দে, কাপড় দে, বাসস্থান দে, পুনর্বাসন দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজির মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ওই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও সেখানে মাদককেন্দ্রিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে হাজির মাজার বস্তি এলাকায় মাদকের আখড়া ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এ অভিযানকে কেন্দ্র করে কিছু বাসিন্দার মধ্যে তাদের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হবে-এমন ধারণা তৈরি হলে তারা বিক্ষোভে নামেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, আন্দোলনকারীদের ভুল বোঝানো হয়েছিল যে তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হবে। আসলে পুলিশ সেখানে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করতে যায়নি, মাদকের আখড়া উচ্ছেদ করতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরাও মাদকের বিপক্ষে এবং তারাও মাদকমুক্ত পরিবেশ চান। বিষয়টি তাদের ভুলভাবে বোঝানো হয়েছিল। পরে প্রকৃত বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার করা হলে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করে চলে যান।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে তাদের প্রকৃত বিষয়টি বুঝিয়েছে। প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যে তারা বুঝতে পারেন যে তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদের বিষয়টি সঠিক নয়। এরপর তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সবারই প্রত্যাশা। পুলিশও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্য কাজ করছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়ায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবেই স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অনেকেই হাজির মাজার বস্তি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের মাদককেন্দ্রিক তৎপরতা বন্ধ হলে টঙ্গী বাজার ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবেন।
বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশে যান চলাচল ব্যাহত হলেও আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশও ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগরীকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জনদুর্ভোগ কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে।