শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : পদ্মায় নাব্য সংকটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল ইজারায় প্রায় ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান।

চ্যানেলের ইজারাদার মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১লা জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের জন্য তার প্রতিষ্ঠান গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাঃ লিমিটেড উক্ত নৌ-চ্যানেলের ইজারা লাভ করে। ইজারা মূল্য, আর্নেস্ট মানি, আয়করসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা।

ইজারার আওতায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল হয়ে চলাচলকারী নৌ-যান হতে চ্যানেল চার্জ আদায় কেন্দ্র ঘাট পয়েন্ট থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পায় এ প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, ইজারার শুরুর দিকে বর্ষা মৌসুমে দু-তিন মাস পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও গত কয়েক মাস ধরে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ভারী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেলের পানির গভীরতা ৮ থেকে ১০ ফুট। অথচ বড় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ ফুট গভীরতা। প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকছে। ফলে চ্যানেল চার্জ আদায়ও স্থবির হয়ে পড়েছে। ইজারাদার মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এখনো অর্ধেক টাকাও তোলা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় ব্যাবসায়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।

তার দাবি, দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম চালু করে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। পাশাপাশি লোকসানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইজারাদারের মতে, নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা নিশ্চিত না করে ইজারা প্রদান করলে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ড্রেজিং ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নৌ-চ্যানেলের স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।