সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার আরবি ক্লাস। সামনে বসা শিক্ষার্থীরা মনোযোগী, শিক্ষক বোঝাচ্ছেন ধীরে ধীরে, যতœ করে। এই দৃশ্য প্রতিদিনের। কিন্তু এই নিভৃত পরিশ্রমই এখন পরিণত হয়েছে জাতীয় স্বীকৃতিতে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ সাদুল্লাপুর উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক (মাদ্রাসা) নির্বাচিত হয়েছেন নিয়ামতনগর নিয়ামত উল্লাহ শাহ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মোঃ তৌফিকুর রহমান। গত ৮ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি ১৩টি ক্যাটাগরিতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করে।

তবে এটি তাঁর প্রথম স্বীকৃতি নয়। ২০২৩ সালে তিনি একই পুরস্কার পেয়েছিলেন উপজেলা ও জেলা — দুই পর্যায়েই। ২০২৪ সালেও উপজেলা পর্যায়ে তাঁর নামটি ছিল সবার শীর্ষে। তিন বছরে তিনটি পুরস্কার — এই ধারাবাহিকতা কোনো কাকতাল নয়, এটি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের দীর্ঘ সাধনার ফসল।

শুধু শ্রেণীকক্ষেই নয়, জ্ঞানের সন্ধানেও তিনি কখনো থামেননি। ফাজিল, কামিল (তাফসির), কামিল (আরবি সাহিত্য), বিএড, অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ২০১৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরও থেমে যাননি। গত ৮ মে পিএইচডি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গবেষণার নতুন দিগন্তে পা রেখেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের যিনি প্রতিদিন শেখার অনুপ্রেরণা দেন, তিনি নিজেও যে প্রতিনিয়ত শিখে চলেছেন — এটাই হয়তো তাঁর সাফল্যের মূল রহস্য।

সাদুল্লাপুর উপজেলার একমাত্র ফাজিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত এই শিক্ষক বলেন, ‘পুরস্কার আমাকে অনুপ্রাণিত করে, কিন্তু আমার শক্তি আসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তাদের জন্যই এই পথচলা।’ সামনের দিনগুলোতে সবার দোয়া ও ভালোবাসাই তাঁর পাথেয় বলে জানান তিনি।