শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল স্থল বন্দরে অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ ও বকেয়া অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছে স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদ।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী পরিষদ আগামী ১৯ মে থেকে ২১ মে ৩ দিন বিকাল ৫ টা থেকে অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় আমদানি-রপ্তানি সহ বন্দরের সকল কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতায় থাকবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন। তার জানান যৌক্তিক দাবি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হলে আগামী ০৭ জুন ২৬ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় কর্মবিরতি চলমান থাকবে ।
স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহবায়ক হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে দৈনিক নির্ধারিত কর্মঘন্টার অতিরিক্ত সময় বিকাল ০৫ টা থেকে -রাত ১২ টা এমনকি রাত ৩ টা পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক ও সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির দিন কাজের জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন অধিকাল ভাতা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ৪৮ঘণ্টা প্রদান করে। পরবর্তীতে বন্দরের কাজের বিবেচনায় ২০১২ সালের ১৮তম বোর্ড সভায় ৭২ঘন্টায় উন্নীত করা হয়। যা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়।তখন থেকে আমরা সাধারণ কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৭২ঘণ্টা অধিকাল ভাতা পেয়ে আসছি। কিন্তু বেনাপোল স্থলবন্দরে গত নভেম্বর-২০২৫ এবং অন্যান্য স্থলবন্দর সমূহ গত জুন-২০২৪ হতে কর্তৃপক্ষ উক্ত অধিকাল ভাতা বন্ধ করে দেয়। তাই গত ১৭/১২/২০২৫ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন প্রেরণ করা হয়, এছাড়াও ১২/০১/২০২৬ তারিখে প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার ঝুলানো হয় এবং ২৭/০১/২০২৬ তারিখে কার্গো ভেহিকল টার্মিনালে অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ এবং বকেয়া সহ পুনরায় চালু করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
তারপরও কর্তৃপক্ষ অধিকাল ভাতা প্রদানের জন্য কোন যৌক্তিক ভূমিকা গ্রহণ করেনি। এর পর গত ১০/০৫/২৬ এবং ১১/০৫/২৬ উক্ত দুই দিন অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় বিকাল ০৫টা হতে সন্ধ্যা ০৭টা পর্যন্ত দুই ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। উপরোক্ত কর্মসূচি পালন করার পরও কর্তৃপক্ষের নিকট অধিকাল ভাতা বিষয়ক কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই প্রাপ্য এবং ন্যায্য অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে আগামী ১৯/০৫/২০২৬ হতে ২১/০৫/২০২৬। ৩ দিন বিকাল ০৫টা হতে অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় আমদানি-রপ্তানি সহ বন্দরের সকল কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতায় থাকবে। উল্লিখিত যৌক্তিক দাবি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হলে আগামী ০৭/০৬/২০২৬ হতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় কর্মবিরতি চলমান থাকবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক উপ সচিব শামীম হোসেন রেজা বলেন,অধিকাল ভাতা এবং বকেয়া পুনরায় চালু করলে ভালো হয়। কারন তারা রাতদিন ২৪ ঘন্টা কাজ করে থাকে। তিনি বলেন আমি যোগদান করার পর ৯ মাস দেওয়া হয়েছিল। পরে অর্থ বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়াতে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তাদের কর্মবিরতির ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠিয়েছি যাতে একটা সমাধান হয়।
প্রেরক:- মনিরুল ইসলাম মনি, শার্শা সংবাদদাতা। মোবাইল নং ০১৭১৬৫৯১১১৪, তাং ১৩/০৫/২৬।
বুধবার সকালে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল স্থল বন্দরে অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ ও বকেয়া অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অতিরিক্ত কর্মঘন্টায় কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের মানববন্ধন করে।