পাইকগাছা সংবাদদাতা : পাইকগাছা টু কপোতাক্ষ নদের ওপর খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সংযোগস্থলে নির্মাণাধীন ‘শালিখা সেতু’ ৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ সময় ধরে মন্থর গতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সরঞ্জাম ও শ্রমিক নিয়ে রাতের আঁধারে সাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে। এতে সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, আর দুই পারের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

সাঁকোই এখন একমাত্র ভরসা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে কপোতাক্ষ নদের নব্যতা হ্রাস পেলে পাইকগাছার রাড়ুলীর কাটিপাড়া ও তালার খেশরার সংযোগস্থলে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে নদী খনন ও টিআরএম প্রকল্পের কারণে সেই সাঁকোটি ভেঙে যায়। বর্তমানে সেখানে পুনরায় একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে এই জরাজীর্ণ সাঁকো পারাপার হচ্ছেন।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে তা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর্যন্ত মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ শেষ করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চাপের মুখে আরও ১৩ শতাংশ কাজ করলেও, বর্তমানে ৭৩ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঠিকাদারের তালবাহানা ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এ জেডটি (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জিয়াউল আহসান টিটুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব জানান, কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ গত ২৪ মার্চ শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তারা কাজ শুরু করেনি। এমতাবস্থায় বিধি মোতাবেক কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।