মোস্তাফিজুর রহমান, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : প্রয়োজনীয় উপকরণ, পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেত ও পাটি শিল্প বিলুপ্তির পথে। এক সময়ে গোপালপুর উপজেলার বাইশকাইল গ্রামের বেতের তৈরী পাটি ছিল দেশ জুড়ে সমাদৃত। দিনমুজুরের ঘর থেকে শুরু করে রাজা জমিদারদের ঘর পর্যন্ত এই পাটির বিছানা শোভা পেত। এখানকার তৈরী বিভিন্ন প্রকারের পাটি দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হত, ক্রেতারা সামর্থ অনুযায়ী পাটি ক্রয় করে নিত। একসময় এই গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবারের ছোট-বড় নারী-পুরুষ সকলেই এই পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। তাই বাইশকাইল গ্রামের এই অংশটুকুর নাম হয়েছে পাইত্যাপাড়া। সেসময় এই ব্যবসা খুব লাভজনক থাকায় এখানকার অনেক পাইত্যাই তালুক কিনে খাজনা আদায় করতেন, সেই থেকে অনেকেই তালুকদার পাড়াও বলে থাকেন। গত কয়েক দশকে নানা বৈষম্য, উপকরণ ও পুঁজির অভাবে বিলিন হয়ে গেছে এখানকার পাটি শিল্প। এখানকার ৪০০ বছরের পুরাতন এই শিল্পকে ধরে রেখেছে মাত্র ১টি পরিবার। পাটি শিল্পের সাথে জড়িত ৭০ বছর বয়সের জীর্ণ বস্ত্র শীর্ণ দেহের নরেশ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘আমাগো জমি নাই, বেত আবাদ করবার পাই না, পুঁজি নাই, দূর-দুরান্ত থেকে বেত কিনা আনতে হয়। তাই এই পেশা ছেড়ে সবাই দেশের বিভিন্ন জাগায় মিল কারখানায় চইলা গেছে। আমার দুই ছেলে তিন মেয়ে। মেয়েদেরকে অতি কষ্টে বিয়ে দিছি। বড় ছেলে ড্রাইভারী করে। আমাগো ফালাইয়া দূরে চইলা গেছে। আমার বয়সয়ইছে, তাই অন্য কোন কাম কাজ করবার পাইনা। ছোট ছেলেডারে নিয়া ঋণ দেনা কইরা বাপ-দাদার পেশা ধইরা রাখছি।

জানা যায়, ৪/৫ হাত ১টি সাধারণ পাটি বুনতে ১জন ব্যক্তির সময় লাগে ৪/৫ দিন। খরচ হয় ৯০০/৯৫০ টাকা। বিক্রয় হয় ১১০০/১১৫০ টাকায়। একটি পাটি বুনতে পরিবারের শিশু বৃদ্ধ সকল সদস্যের হাতের ছোঁয়া থাকে বলে কোন মতে ডালভাত খেয়েব বেঁচে আছে তারা। আরও জানা যায়, অর্থের অভাবে ১২বৎসর যাবত ধর্মীয় উৎসব পূজা পার্বন পালন করতে পারছেনা। তাই সরকারী সহায়তা কামনা করছে তারা।

অভিরন্নেছা মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন জানান, মাত্র ১টি পরিবার ধরেরেখেছে এই শিল্পটাকে তাই সরকারি ভাবে তাদেরকে দ্রুত সহযোগিতা না করা হলে, একসময় গোপালপুর থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে এই পাটি শিল্প।