বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে আলেম-উলামারা জীবনবাজী রেখে কাজ করে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আলেম-উলামারা মাঠে নেমেছিল। জালেম সরকার দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আলেম-উলামারা কখনোই বাতিল শক্তির সাথে আপোশ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আলেম-উলামার মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকা যাবে না। কওমি আলিয়ার মাঝে যে প্রাচীর রয়েছে তা উঠিয়ে দিতে হবে। ইমাম-খতীব, আলেম-উলামা, কওমি-আলিয়া সবাই মিলে সর্বসাধারণের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত, ঐক্যের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়োত্তর আমাদের এই প্রিয় দেশকে সকল ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করে দ্বীন কায়েমে সচেষ্ট হতে হবে। গত শনিবার তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া কামিল মাদরাসা খুলনার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সোনাডাঙ্গা থানা বার্ষিক উলামা সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
সোনাডাঙ্গা থানা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা অজিহুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, খুলনা মহানগরী উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, খুলনা মহানগরী মসজিদ মিশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। মাওলানা নূরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সউদ, মাওলানা মো. জাহিদুর রহমান নাঈম, মাওলানা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মশিউর রহমান রমজান, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, শেখ আনোয়ারুল কবির, মাওলানা ছফির উদ্দীন, মাওলানা নাসরুল্লাহ, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা বাকি বিল্লাহ, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা ইকবাল হুসাইন, মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস শহিদুল ইসলাম, মাওলানা শুয়াইব হোসাইন প্রমুখ।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর জীবনী আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। তাই আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পথকে অনুসরণ করা আমাদের বড় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব জীবন দিয়ে হলেও আমাদের পালন করতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমাজে সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখে উলামায়ে কেরামগণ। তারা মসজিদ মাদরাসার মাধ্যে কুরআনের কথা মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। তাই আসুন রাসূল (সা.)-এর জীবনের আদর্শ দিয়ে আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনা করি। এই কাজগুলো করতে পারলে আমরা একটি মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজে অগ্রসর হতে পারবো-ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। নেতৃত্বের জন্য উলামায়ে কেরামদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ দাওয়াত সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে দেশ গড়ার সুযোগ দেয়া হলে তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করবে।