কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে শুরু হয়েছে জনপ্রিয় হিমসাগর আম সংগ্রহ। গত শুক্রবার (১৫ মে) থেকে জেলার বিভিন্ন বাগানে গাছ থেকে হিমসাগর আম ভাঙা শুরু করেন চাষিরা। একই সঙ্গে এদিন থেকেই বিদেশে রপ্তানিও শুরু হয়েছে সুস্বাদু ও রসালো এ আমের।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউয়িনের বাগবাটি এলাকার আমচাষি ভাদু মন্ডল এর বাগান থেকে প্রথম দিনেই ইংল্যান্ড ও ইতালিতে পাঠানো হয়েছে হিমসাগর আম। তিনি জানান, গত শুক্রবার তার বাগান থেকে প্রায় চার টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। আমের ব্যাপারীদের কাছে প্রতি মণ আম তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে এখন হিমসাগর ও গোবিন্দভোগ আমের দাম অনেকখানি কমে গেছে বাজারে চাহিদাও কম। বর্তমানে হিমসাগর আম প্রতি মন ১০০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর গোবিন্দভোগ আম প্রতি মন ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল সকালে সাতক্ষীরার একমাত্র বড় আমের বাজার সুলতানপুরে গিয়ে দেখা যায়, আমভর্তি ক্রেট নিয়ে শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের দীর্ঘ সারি। বাজারজুড়ে ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত সময় পার করেন ক্রেতারা।

রাজশাহী থেকে আসা পাইকারী আশিকুর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা সুনাম রয়েছে। রং, ঘ্রাণ ও স্বাদের কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি বেশি পরিমাণে কিনছেন।

প্রথমদিকে বাজারে প্রতি মণ হিমসাগর আম ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে হিমসাগর ও গোবিন্দভোগ আমের দাম অনেকখানি কমে গেছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, হিমসাগর আম এখন পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ায় গত শুক্রবার থেকে বাজার জাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে। তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।