সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন। তিনি ছাত্রদলের জেলা সভাপতিও ছিলেন।
গত ১৮ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯ মে সকালে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রশাসক পদে যোগদান করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রবিউল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রাপ্য হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার পর গত ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট ১৪ মে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গেজেটে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩(৩) অনুযায়ী বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে নতুন এই সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের অনেক আগেই নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক হতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেন বিএনপি নেতারা। বিশেষ করে বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল চৌধুরী হিরু এবং জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছিল। সারা শহরে দুই নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দেখার আকুতি জানিয়ে সমর্থকরা ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সিনিয়ির বিএনপি নেতা ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. এ কে এম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাশার, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার হেনার নামও যুক্ত হয় সম্ভাব্য প্রশাসকের তালিকায়। দলীয় নেতাদের তদ্বিরে বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি আমলাকে প্রশাসক পদে বসাতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যাকে নিয়ে কোথাও কোন উচ্চাস দেখা যায়নি সেই এম আর ইসলাম স্বাধীনকেই প্রশাসক হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার। অবহেলিত এই জনপদের উন্নয়নে নবনিযুক্ত প্রশাসক সাহসী ভূমিকা পালন করবেন এমন প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী।