অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ শুরু হওয়ায় ফের চালু হয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা রিফাইনারিটি শুক্রবার (৮ মে) সকাল আটটার পর পুনরায় উৎপাদনে ফিরে আসে। ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, কুতুবদিয়ায় নোঙর করা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিং পদ্ধতিতে ছোট ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল রিফাইনারিতে আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়া হবে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ক্রুড অয়েলের চালান পৌঁছেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বুধবার দুপুরে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান।
বিশাল আকৃতির ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, নিরাপদে ‘এমটি নিনেমিয়া’ দেশে পৌঁছেছে। কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।তিনি জানান, জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর আগে রাতভর জাহাজে তেল লোড করা হয়। রেড জোন নিরাপদে অতিক্রম করে নির্ধারিত সময়ে এটি কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
তিনি আরও বলেন, ফুজাইরা থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আনতে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। এটি ৯ মে বন্দরে পৌঁছাবে এবং ১০ মে তেল লোড করে আবার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। অন্যদিকে ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের জাহাজে বিপিসির আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় জাহাজটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে থাকে, যা দেশের মোট বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়। স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে আসে প্রায় ৮ শতাংশ জ্বালানি।
দেশের জ্বালানি চাহিদার মধ্যে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এর পর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।