খুলনা প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতর দুই আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার রাত সোয়া ৪ টার দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার দীঘির পাড় থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আদালতে উত্থাপন করা হলে বিকেল ৩টায় খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
কারাগারে না গিয়েই ১৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত হয়েছেন তারা। তারা হলেন, লবণচরা থানাধীন দক্ষিণ নিরালা ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দ মৃত বাজতুল্লাহ গাজীর ছেলে মো. বাবুল গাজী (৬০), বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই এর ছেলে মো. সবুজ হোসেন হাওলাদার (৪২)। পেশায় তারা উভয় দর্জি। আক্তার চেম্বারের একটি টেইলার্সে চাকুরি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার বসু জানান, এজাহার নামীয় ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে যাদের গ্রেফতার করা হয় তারা অজ্ঞাতনামা আসামীর তালিকায় রয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রেসক্লাব থেকে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয় ছিল। তারা রজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। পেশায় খুলনার আক্তার চেম্বারের একটি প্রতিষ্ঠানে দর্জির কাজ করে। ঘটনার পর থেকে অন্যান্য আসামীর সাথে এরা দু’জন পলাতক ছিল। সোর্স নিয়োগ করে তাদের দু’জনকে আটক করা হয়। তারা কোনো তথ্য দেয়নি।
পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন ওই পথ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু সিসি টিভি ফুটেজে তাদের উপস্থিতির উত্তর গ্রেফতার দুইজনেরই একজন দিতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল (রোববার) খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে সভাপতি প্রার্থী খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবর্তনের সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করতে থাকে। তখন এখন টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তার ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। রাতে খুলনা সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বাদী প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত উল্লেখ করেন, সন্ধ্যা ৬ টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী বেআইনিভাবে দেশি অস্ত্রসহ অনাধিকারে খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে।
এ সময় তারা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের মারপিট করে। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান। এছাড়া আরও ২০/২৫ জন অজ্ঞাত আসামী রয়েছেন।