জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতাঃ ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। সবার মনে এমন আবহ থাকলেও পিরোজপুরের জেলে পল্লীর কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার লেশমাত্র নেই। অভাবের তাড়নায় ধারদেনা করে দিন চললেও ঈদ উদযাপনের জন্য সেমাই-চিনি কেনার সামর্থ্যটুকুও নেই অনেক জেলের। পরিবারের শিশুদের কিনে দিতে পারেননি নতুন পোশাক। সব মিলিয়ে উৎসবের কোনো প্রস্তুতিই নেই এই মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলেও পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য পল্লীসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার জেলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এর কোনো আমেজ দেখা মিলছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ পরিবারে শিশুদের জন্য কেনা হয়নি নতুন কোনো কাপড়। এমনকি কেনা হয়নি সেমাই, চিনি কিংবা দুধের মতো নিত্যপণ্য।
মূলত ১ মার্চ থেকে দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই জেলেরা। অবরোধের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের কাছে ঈদের আনন্দ এখন অর্থহীন। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের জেলে পল্লীর অধিকাংশ জেলে এখন বেকার সময় পার করছেন। কেউ জাল সেলাই বা নৌকা মেরামতে ব্যস্ত থাকলেও অনেকেই কাজের সন্ধানে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের চার মাসের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
জেলে পরিবারের সদস্য সুমাইয়া আক্তার বলেন, “একে তো অবরোধ, তার ওপর ঈদ। আমাদের পরিবারের দুজন পুরুষ মাছ ধরত, এখন তারা অলস সময় কাটায়। মাছ ধরতে না পারায় হাতে টাকা নেই, তাই বাচ্চাদের জামাকাপড় কিনে দিতে পারি নাই। ঈদের দিন একটু সেমাই রান্না করব, সেই টাকাও নাই।”
একই আক্ষেপ জেলে আউয়াল শেখের। তিনি জানান, জামাকাপড় কেনা তো দূরের কথা, ঈদের দিন একটু নুডলস বা মাংস কেনার সংস্থানও তাদের নেই।
জেলে মাসুম হোসেনের স্ত্রী উর্মি বলেন, “বাচ্চাকাচ্চা খাবারের জন্য চিল্লাপাল্লা করে, ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ঘরে চাল নাই, ঈদের জামাকাপড় আসবে কোথা থেকে? ঈদের দিন দরজা দিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, জেলায় জাটকা সংরক্ষণ ও অবৈধ জাল নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে ১৮ হাজার ২৫০ জন জেলের মধ্যে ২ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। তবে কর্মহীন এই জেলেরা এখন সরকারি সহায়তায় চালের পাশাপাশি ঈদ সামগ্রী বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।