পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতকে সামনে রেখে জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, ঈদকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে চসিক ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘেœ ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামায আদায় করতে পারেন। তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেট বিছানো হয়েছে। সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা বিবেচনায় রেখে উপরে টারপলিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নামাযে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এছাড়া মাঠজুড়ে প্রায় ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেয়র আরও জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির চাপ সামাল দিতে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে তিনটি প্রধান গেট খোলা রাখা হবে এবং পেছনের গেটটিও ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নগরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রেখে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “নিরাপদ নগর গড়তে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না, এতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।” এ ক্ষেত্রে চসিক সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে একটি সহনশীল ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে উঠেছে, যা একটি নিরাপদ নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিদর্শনকালে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী। এছাড়া চসিকের তত্ত্বাবধানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ পরিদর্শন শেষে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রমজানের শিক্ষা ধারণ করে নগর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকসহ চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় সার্কিট হাউজ ময়দানে প্রধান

জামাত সকাল ৮টায়

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় পবিত্র ঈদ উল ফিতর ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাতসহ নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার, সামাজিক কার্যক্রম এবং যানবাহন চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম, সকাল ৯টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহে পরিচালনা কমিটি নিজ নিজ সুবিধামতো জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তা নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউজ ময়দান জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধামতো সময়ে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব তুলে ধরে সেমিনার বা আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু আনন্দমেলার আয়োজন করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।

নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হবে। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে খোলা পিকআপ বা ট্রাকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি রোধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সিলেট ব্যুরো: সিলেটে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। দ্বিতীয় বৃহত্তম জামায়াতও অনুষ্ঠিত হবে একই সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগা জামে মসজিদে। আঞ্জুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের উদ্যোগে নগরীল আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ ঐতিহ্যবাহী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এবং তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন হাফিজ মাওলানা হোসাইন আহমদ।