গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিসুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আনিসুর রহমান গাজীপুর মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালগাছ এলাকার আনজত আলীর ছেলে। তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছিল।
এদিকে, গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৫১ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং ৩জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালে গাজীপুরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ২৯৪ জন এবং ১৩৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪জনে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৫ জনের মধ্যে পুরুষ ‘এ’ ওয়ার্ডে ৫০ জন, পুরুষ ‘বি’ ওয়ার্ডে ১২ জন, নারী ‘এ’ ওয়ার্ডে ২২ জন, নারী ‘বি’ ওয়ার্ডে ২৫ জন এবং শিশু বিভাগে ১৪ জন রয়েছেন। এছাড়া কেবিন ‘এ’-তে একজন এবং কেবিন ‘বি’-তে একজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গাজীপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৪ হাজার ৯৮৮ জন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন, ৫১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল এবং ওই বছর ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়। পূর্ববর্তী রোগী হিসেবে ১১৮ জনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গাজীপুরে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠছে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না,একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।