গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় দুটি তৈরি পোশাক কারখানায় হঠাৎ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাথা ঘোরা, বমি, শ্বাসকষ্ট, আতঙ্ক ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টিকে ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা আতঙ্কজনিত অসুস্থতা বলে নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (১১ মে) সকালে ভোগড়া বাইপাস এলাকার প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও প্যানাসিয়া গার্মেন্টস লিমিটেডে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্যানারোমা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ৭ম তলায় উৎপাদন কাজ চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে একটি চার্জিং পয়েন্টে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক সিঁড়িতে পড়ে আহত হন এবং ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাদের তাইরুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে পাশের প্যানাসিয়া গার্মেন্টস লিমিটেডে কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। গত ৮ মে কর্তব্যরত অবস্থায় শ্রমিক জেসমিন খাতুন জেবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সোমবার সকালে কারখানায় মিলাদ মাহফিল চলাকালে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়তে থাকেন। পরে অসুস্থ শ্রমিকদের তাইরুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ জানায়, দুই কারখানা মিলিয়ে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি ম্যাস সাইকোজেনিক ডিজিজ বা আতঙ্কজনিত মানসিক সমস্যার কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হঠাৎ ভয় ও মানসিক চাপে শ্রমিকদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।’
গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, শ্রমিকরা প্যানিক অ্যাটাক বা আতঙ্কজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অধিকাংশ শ্রমিক সুস্থ আছেন।’
তাইরুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, প্রফেসর ডক্টর রেজাউল দোলার রাজু জানান, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে শ্রমিকদের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ রোগী আশঙ্কামুক্ত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।