জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি (রসুলপুর) গ্রামের বাসিন্দা পিয়ার আলীকে বিভিন্ন সাংবাদিক মাধ্যমে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে প্রচার করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গত বুধবার রাত ৯টায় জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টস্থ একটি অভিজাত কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা অফিজল হোসাইন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সাংবাদিক মাধ্যমে পিয়ার আলীকে ‘জামায়াত নেতা’ ও ‘আঞ্চলিক সভাপতি’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিক প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, পিয়ার আলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো পর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন। যদিও তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু দলের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের কোনো সাংগঠনিক পদে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘আঞ্চলিক শাখা’ নামে কোনো স্তরের অস্তিত্বই নেই।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, পিয়ার আলীর কোনো দলীয় পরিচয় না থাকলেও কিছু সাংবাদিক মাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে জামায়াতের নাম জড়িয়ে দলের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ ধরনের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই করে সাংবাদিক প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট ইয়াসিন খান, মাওলানা লুৎফুর রহমান, আ হ ম ওয়ালী উল্লাহ এবং নেছাওর মিয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, গত ২৪ মার্চ ভোরে শ্রীরামসি গ্রামে পিয়ার আলীর বাড়িতে শান্তিগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের ৫৭ ইস্ট বেঙ্গলের লেঃ কর্নেল সালেহ আল হেলাল, পিএসসি-এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উক্ত বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। একটি পুরোনো মারামারি মামলার আসামি পিয়ার আলীকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এই তল্লাশি চালানো হলেও যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।