সময়মত অফিসে আসা যাওয়ার সরকারের কঠোর নির্দেশনা তাকলেও মৌলভীবাজারে জেলা ও উপজেলা অফিসের কর্মকর্তারা নির্দেশনা মানছেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মর্তাদের সঠিক সময়ে অফিসে আসা যাওয়ার নিদের্শনা দিয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মানা হচ্ছে না এ নিয়ম। মৌলভীবাজার জেলায় এ নির্দেশনা অনেকটা উপেক্ষিত। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। অনেকেই এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসছেন। আবার অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। সাংবাদিকরা কারণ জানতে চাইলে নানা অজুহাত হাজির করা হয়।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান একাধিক দপ্তর প্রধান রোববার বিকালে বাড়ি থেকে অফিসে আসেন। আবার সাপ্তাহিক ছুটি আসলে বৃহস্পতিবার সকালে চলে যান। কেউ কেউ সপ্তাহের মধ্যখানেও বাড়িতে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জনৈক সাংবাদিক জেলার বিভিন্ন অফিস ঘুরে বাস্তবে এসব চিত্র দেখেন গত সপ্তাহে। মৌলভীবাজার জেলা শহরের জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কক্ষ ও এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট সাইদুর রহমান ভূইয়ার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায় সকাল ৯টা ৯ মিনিটে। বিআরটিএ অফিসের ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের তালা খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেননি। ৯টা ১৬ মিনিটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পিনাকপাণি ভট্টাচার্য্যকে অফিস গিয়ে পাওয়া যায়নি। ৯টা ১৭ মিনিটে জেলা খাদ্য অফিসার মিলন কান্তি চাকমাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ৯টা ১৮ মিনিটে জেলা কারিগরি খাদ্য অফিসার সাকির আহমদ খানকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ৯টা ২৩ মিনিটে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ৯টা ৩১ মিনিটে জাতীয় মহিলা সংস্থার অফিসে গিয়ে প্রধান ফটকটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ সময় কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীকে গেটের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এছাড়া ৯টা ৪৪ মিনিটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আলাউদ্দিনের অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ১০টা ২ মিনিটে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। অফিসের একজন কর্মচারী বলেন, স্যার বাসায় আছেন। এ চিত্র জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান 'প্রত্যেকটা অফিসের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। জেলা প্রশাসক হিসাবে সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন সভায় বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব। তবে নিয়মিত কেউ দেরিতে আসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।