লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
চলতি এসএসসি পরীক্ষার ৫ম দিনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি স্কুলে ভিন্ন সেটে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, এটা ভুল করে হয়েছে। মঙ্গলবার রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের অপর সেন্টারে ঠিক প্রশ্নেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পত্র লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিলো তিন নাম্বার সেটে। কিন্তু নেওয়া হয়েছে এক নম্বর সেটে। সেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন ৭৬০ জন পরীক্ষার্থী।
ঘটনাটি বুধবার দুপুরে জানাজানি হলে বোর্ড থেকে শোকজ করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকীকে। তিনি সব কাজ ফেলে রেখে শোকজের জবাব দিতে ছুটে গেছেন বোর্ডে। এখন পর্যন্ত তাকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না দাবি করে কোন বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি প্রধান শিক্ষক। ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর অনেকেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে বলেছে।
পরীক্ষার্থী মিল্লাত হোসেন ও সৌরভ হোসেন বলে, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাসায় যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করার সময় বুঝতে পারি যে আমরা অন্য সেটে পরীক্ষা দিয়েছি। এক নম্বর সেটের তুলনায় তিন নম্বর সেটের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন ছিল।’ এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবীর উদ্দিন আহমেদ । তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র সচিববের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে ফেলার পরেই ভুলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই সেন্টারের খাতাগুলো আলাদা করা এখনও সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারকী । তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন মেছের আহমেদ নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা।
প্রথা অনুসারে, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয়ের জন্যেও কেন্দ্রে ‘এক’ এবং ‘তিন’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের বার্তা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের। সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘তিন’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক মিছির আহম্মেদ।
মিছির আহম্মেদ বলেন, ‘দুটি বস্তা পাশাপাশি থাকায় ভুলেই তিন নম্বর সেটের বস্তাটি আমি দুজন সহকর্মীর উপস্থিতিতে খুলে বিতরণ করি। কেন্দ্র সচিব তখন সিসিটিভি সংক্রান্ত একটি সমস্যা সমাধানে অন্য কক্ষে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসার পর তিনিও আমাদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণ করেছেন।’
প্রশ্নপত্র খোলা হয়েছে দেখে আর সেটের বিষয়টি যাচাই করার চিন্তা মাথায় আসেনি বলে দাবি করেন কেন্দ্র সচিব। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নের বস্তা আমারই খোলার কথা। কিন্তু পরীক্ষার সময় হয়ে আসায় ওরা খুলেছে। তবে আমি কাউকে নির্দেশনা দেইনি। কিন্তু কেন্দ্র সচিব হিসেবে এই দায় আমার ওপরেই বর্তায়। পরবর্তীতে প্রশ্নের সেটের বিষয়টি আমার পরীক্ষা করা উচিত ছিল।’