গাজীপুরে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে আমরা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো। সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করেছে এবং টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না। হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে টিকার ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণে কাজ চলছে। এই কর্মসূচি সফল করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি জেলার সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, যেখানে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং এর মধ্যে ৪৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ হিসেবে বর্তমানে ৪৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি জানান, হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।