মোংলা সংবাদাতা : মোংলা উপকূল অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের অধিকার সুরক্ষা, টেকসই জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে এক বহুপক্ষীয় মৎস্যজীবী প্ল্যাটফর্ম সভায়। মঙ্গলবার সকালে মোংলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মৎস্যসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করাও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
সভায় জানানো হয়, “ফিশারফোক ইন্টিগ্রেশন ফর সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাট অ্যান্ড ন্যাচারাল ইকোসিস্টেম ট্রান্সফরমেশন (FISHNET)” প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ। এতে সহযোগিতা দিচ্ছে ওশান গ্র্যান্টস প্রোগ্রাম এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (Action Against Hunger/Action Contre la Faim), সিএনআরএস (CNRS), শেরি এবং উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবনে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো নানা কারণে তাদের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, সমুদ্রে নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ, ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে উপকূলীয় মৎস্যজীবীরা আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার শেষে মৎস্যজীবীদের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।