মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তারা ঢাকায় পৌঁছান বলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের মধ্যে ট্রানজিটে থাকা যাত্রী ও দূতাবাসের কর্মীরা ছিলেন।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় কাতার সরকার এবং কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেশে ফেরাতে এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ সরকার। গেল বুধবার কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের ঢাকায় ফেরাতে এই বিশেষ ফ্লাইটের উদ্যোগের কথা বলেছিল বাংলাদেশ দূতাবাস।

নারী এবং বয়স্ক সদস্যদের এই বিশেষ ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তুলে ধরে আগ্রহী যাত্রীদের তালিকা করার জন্য দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ এবং অন্যান্য সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি গুগল ফর্ম শেয়ার করে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪ লাখের বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২.৫ শতাংশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাতারের নির্মাণ, সেবা ও বিভিন্ন বেসরকারি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

শাহজালালে ৪৭৫ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে এই বিমানবন্দরে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৭৫টিতে। গতকাল শনিবার শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি, ১৩ মার্চ ২৫ টি এবং ১৪ মার্চ ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

গতকাল বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএই) ২টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, জাজিরার (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাই দুবাইয়ের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি।