দেশে বেড়েছে হামের সংক্রমণ। হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৮৫ জন। এ সময় হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ‘আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ ছাড়াও ঢাকার মুগদা, সোহরাওয়ার্দী, ডিএনসিসি, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মাতুয়াইলের আইসিএমএইচ এবং মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬৭৮ জন। তবে হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দুই শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরলক্ষ ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্দেহভাজন দুই শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন। পরে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানায়, সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, পাঁচ বছরের নিচের সব শিশুর টিকাদান কার্ড যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত টিকা শিশুকে দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশু যদি নির্ধারিত সময়ে টিকা না পেয়ে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান : গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গাইবান্ধার ইপিআই স্টোর বিভাগ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ৩ শিশু, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সাঘাটা উপজেলায় ১ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২ শিশু এবং সুন্দরগঞ্জে ২ শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর ও সাঘাটার ১টি করে শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে রয়েছে- সদরের মালিবাড়ি ইউনিয়নের শফিক মিয়ার ছেলে মারুফ (৫) এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে সাব্বির (৬)।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু সাব্বির ৩০ মার্চ এবং শিশু মারুফ ৩১ মার্চ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া শিশু তাসিন ৩০ মার্চ চিকিৎসা শেষে চলে গেছে। জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আক্রান্ত ছয় শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। তিনজনের দুইজন শিশু ভর্তি রয়েছে। আরএমও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের হাম-রুবেলায় আক্রান্তের সকল চিহ্ন স্পষ্ট। তবে, যেহেতু এখানে পরীক্ষার সুযোগ নেই, সেহেতু নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে

হরিরামপুর ( মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান : মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিন শিশুসহ মোট ১৫ জন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যেই ১৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

গতকাল মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। জানিয়েছেন। তিনি জানান,দুপুর একটার মধ্যে নতুন করে ২ শিশুসহ মোট ১৪জন শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে দুপুর ২টায় আরও একজন রোগী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জন। নতুন আক্রান্তদের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে চিকিৎসা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের আইরমাড়া গ্রামের ১১ বছর বয়সী আলামিনের মেয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বর্তমানে ফ্লোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এখনও সিট পাননি। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ডা. ফাতিন ইশতিয়াক বলেন,”হাম সংক্রামক হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। আমরা সকলেই রোগী দেখাশোনায় সচেষ্ট রয়েছি। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।