আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এপ্রিল চলবে নিরাপদে : মন্ত্রণালয়
জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবািদক সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
জ্বালানি তেলের চাহিদা ও আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। আর অকটেন ও পেট্রোলÑ এ দুটো আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক হিসাবে পেট্রোল-অকটেন প্রায় এক হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল প্রায় এক হাজার ৪০০ টন লাগে।
যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছিÑ আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ।’ সকালেও মিটিং করেছি। বর্তমান মজুত এবং ইনকামিং শিপÑ সব অন টাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না, ইনশাআল্লাহ।’
সংকট না থাকলেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না কেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছেÑ এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। মজুত প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ করছি।’
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির চিঠির অগ্রগতির বিষয় জানতে চাইলে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা জবাব পাইনি।
অবৈধ মজুত ও শাস্তির বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মন্ত্রী ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এত অবৈধ মজুত তেল উদ্ধার করা হলেও কোনো ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চার ধরনের ডিলারশিপ আছে। কোথা থেকে মজুত হচ্ছে, সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।’
কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছেন না এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যুগ্ম সচিব বলেন, বৃহস্পতিবার সকালেও মন্ত্রী তিন এমডিকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন এবং আমি সকালবেলা জেলা প্রশাসনের সাথে সভা করেছি। আমাদের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন হচ্ছে কৃষকদের সার ও ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমি জেলা প্রশাসকদের একজন একজন করে জিজ্ঞেস করেছি। নির্দেশনাটা এ রকম যে কোন ব্লক সুপারভাইজার যেটাকে এখন বোধয় ইউনিয়ন কৃষি সহকারী কর্মকর্তা এ রকম কিছু বলে। তাদের কাছে কৃষকের তালিকা থাকে। অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোন প্রত্যয়ন নিয়ে যে কৃষক ডিজেল চাইবে, তাকে যেন এটা প্রদান করা হয়। এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
ভিআইপিদের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, ‘এই বিষয়টা ঠিক এইভাবে আমার জানা নেই। তবে এ রকম কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমার মনে হয় না যে আলাদা করে কাউকে এই সুযোগ ফিলিং স্টেশন এই মুহূর্তে অন্তত দেওয়ার সুযোগ আছে।’ জ্বালানি সংকট না থাকলেও এই মুহূর্তে সবার জায়গা থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন মনির হোসেন চৌধুরী।
গরম পড়ে গেছে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে আপনাদের কি চিন্তা-ভাবনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বোধহয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে প্রশ্ন করলে একটু ভালো উত্তর দিতে পারবে। তবে আমাদের দিক থেকে আমি বলি আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে বসেছি তাদের যে প্রয়োজনীয় গ্যাস আমরা দেই সেই গ্যাসটা আমরা বসে ঠিক করেছি যে আমরা এই গ্যাস তাদের দেব। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা গ্যাস দেব।
দেশে বর্তমানে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।
যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মজুত করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল- ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। পেট্রলের মজুত ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।
খুলনা ব্যুরো : জ্বালানি তেে সংকটের অজুহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রূপসা ঘাটে ট্রলার ভাড়া জনপ্রতি এক টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মাঝে।
ঘাট পারাপারের যাত্রীরা জানায়, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রত্যাশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। যদিও পেট্রোল পাম্পগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটরসাইকেল ও অনান্য গাড়ি দীর্ঘ লাইন দিতে হলেও ডিজেল সংগ্রহে খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না। এমনকি জ্বালানি তেলের দামও বাড়েনি। অথচ কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে রূপসাঘাটের মাঝিরা গত পরশু মঙ্গলবার থেকে পূর্বের জনপ্রতি ৪ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে নিচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক যাত্রী বলেন, ‘রূপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা কবে বন্ধ হবে এ নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। একদিকে ঘাটে টোলের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী অপরদিকে হঠাৎ করে ট্রলারে যাত্রী প্রতি ভাড়া বৃদ্ধি করে দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে।’
তারা আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঘাট টোলমুক্তসহ সকল প্রকার অব্যবস্থাপনা নির্মূল করা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোনো লেশমাত্র দেখছি না।’
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় মাঝি সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন শেখ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যে-ভাবে তেল সংগ্রহ করতাম বর্তমানে তেল সংগ্রহ করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। এ অজুহাত দেখিয়ে কিছুসংখ্যক দুষ্ট প্রকৃতির মাঝি মাঝেমধ্যে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি দেখছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা বলেন, মাঝিরা আমার কাছে এসেছিল তাদের নাকি তেল সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমি তাদের বলেছি সরকারি নির্দেশনা মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সহযোগিতা করব। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় কোনো কথা আমাকে কেউ বলেননি। এ বিষয়ে আমি জানিনা।
ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) সংবাদদাতা : দিন যত যাচ্ছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জ্বালানি তেলের সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। তেলের পাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেও ফেরানো যাচ্ছে না শৃঙ্খলা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা।ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্প মেসার্স সাহা ফিলিং ষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নাই লিখে পাম্পটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে পার্বতীপুর ডিপো থেকে লটারির মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন দিন পর পর ৩ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন সাহা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক। চলতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার দুই দিন তেল বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি ।
স্থানীয়রা জানান, পাম্পে তেল দেওয়ার খবরে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে কাক ডাকা ভোরে লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের লম্বা সাড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছায়। জন প্রতি মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। তাও আবার লাইনে দাঁড়ানো সবাই পাচ্ছেন না। কখনো কখনো অর্ধেক লোককে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাম্পে চাহিদা মতো তেল পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে কিছু তেল পাওয়া যাচ্ছে। যা অতি চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার বহলগুড়ি ও বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নিম্নমানের জ্বালানি তেল ( পেট্রোল) নিয়ে এসে ২৩০টাকা থেকে ২৫০ টাকা লিটার বিক্রি করছে।
পাম্পে তেল নিতে আসা কফিলুর রহমান জানান, তিন দিন থেকে ঘুরছি কোথাও তেল পাই নাই।
আরেক ভুক্তভোগী জুবায়ের হোসেন জানান, তেলের পাম্পে গিয়ে একাধিকবার লাইনে দাড়িয়েছি। আমার সিরিয়াল আসার আগেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শামসুজ্জোহা সুজন বলেন, সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বাইক চালকরা পুনরায় ফিলিং ষ্টেশনে ভীড় করতে বাধ্য হন। এতে একদিকে ব্যাপক পরিমাণ কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মেসার্স সাহা ফিলিং ষ্টেশনের ব্যবস্থাপক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস জানান, রেশনিং পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে তিন দিন পর পর ডিপো থেকে চাহিদার তিন ভাগের একভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। যখন যতটুকু তেল পাচ্ছি আমরা সরকারের নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিততে সাথে সাথে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতেছি।
ফুয়েল কার্ড প্রদান ও তেল সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয় তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসা নিতে ঢাকায় অবস্থান করায় ফোন রিসিভ করতে পারেননি।
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতাঃ নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১ হাজার ৩৩০ লিটার চোরাই ডিজেলসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
আটককৃতরা হলেন হাতিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ রাসেল (২২) এবং ফরাজি গ্রামের আজহার আহম্মদের ছেলে মোঃ জাফর (৩৫)।
পুলিশ জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তেলের মজুদ ঠেকাতে হাতিয়া পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ বিঘা গ্রামের নবীর ভূঁইয়া সমিলের উত্তর পাশের সড়ক থেকে ৪ ড্রাম (৭৬০ লিটার) চোরাই ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পৌরসভার এমপির পোল এলাকা থেকে আরও ৩ ড্রাম (৫৭০ লিটার) ডিজেল উদ্ধার করা হয়। ওই সময় চোরাই ডিজেল সংরক্ষণের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অভার ব্রিজের পাশে গ্যারেজ সংলগ্ন স্থান থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-খ ১৪-০৪৯৩) থেকে ১৩ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির ভেতরে রাখা বোতল থেকে এসব অকটেন উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন গাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ হামিদ।
পরে খবর পেয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ হোসনে আরা ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও বিক্রি করে আসছে। এতে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পেতে সমস্যায় পড়ছেন।