রমযানে তাক্বয়া অর্জনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের রোগীর প্রতি আরও মানবিক দরদী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম এনডিএফ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা নজরুল ইসলাম।
রাসুল (সা:) এর যুগের একটি ঘটনার অবতারণা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পশুর প্রতি যদি মানুষের দায়বোধ থাকে তাহলে মানুষের প্রতি মানুষের দায়বোধ অবশ্যই আছে। তিনি বলেন, আমরা এখানে যারা ডাক্তার আছি তারাতো খুবই সৌভাগ্যবান যে, মানুষ যখন বিপদে পড়ে, অসুস্থ হয়, আহত হয় তখনই আমাদের ডাক্তারদের কাছে আসে। রোগীদের আশা যে তারা আমাদের ডাক্তারদের কাছ থেকে আরাম পাবে শান্তি, পাবে এবং সিনসিয়ার ট্রিটমেন্ট পাবে। সেই মানুষের দোয়া আপনি পাবেন।
তিনি আফসোস করে বলেন আমরা সেই মানবিক জায়গাটা তৈরি করতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের যে বিবেক দিয়েছেন সেই বিবেক দিয়ে আমরা দুনিয়ার সামনে একটা মডেল তৈরি করতে পারিনি। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পশ্চিমা বিশ্বে কথাটা বার বার বলেছি। তারা বলেন, ‘ডক্টরস’ নেস্কট টু দ্য গড। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে ডাক্তার আমার জীবনটাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। তারা দুইটা জায়গাকে নিরাপদ মনে করে। একটি ডাক্তারের কাছে আরেকটি পুলিশের কাছে। আমরা সেই জায়গাটা তৈরি করতে পারিনি। আমরা বিবেক অনুযায়ী চলতে পারিনি। আল্লাহকে ভয় করে চলতে পরিনি।
আমীরে জামায়াত বলেন, হাসরের দিন কিছু মানুষকে আল্লাহ পাক আটকে দিবেন। তিনি বলবেন, ওহে বান্দা তুমিতো অনেক নেকি করে এসেছো। তুমিতো আমার একটা হক আদায় করোনি। বলবেন, আমিতো অসুস্থ হয়ে তোমার কাছে গিয়েছিলাম। সেবা করোনি। এসময় তিনি স্বচ্ছতা দায়বোধ এবং দরদ নিয়ে যদি আমরা মানুষের প্রতি চিকিৎসার হাত বাড়াতে পারি; আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে আমাদের সম্মানিত করবেন, আখেরাতেও সম্মাানিত করবেন। আর যারা আমাদের কাছে আসবে; তারাও অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
ডা. শফিকুর রহমান ডাক্তার ইদ্রিসের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনি কেমন ছিলেন আমরা সবাই জানি। আমরা রোগী পাঠাতাম। রোগী বলতো ওনাকে দেখা মাত্র কথা শোনা মাত্র আমার অর্ধেক রোগ শেষ হয়ে গেছে। বাকী অর্ধেক চিকিৎসা দিয়ে শেষ হয়েছে। ডা. ইদ্রিস যে আদর্শ সেটআপ করলেন আমরা পারলাম না। আমার সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রইলো।