- মার্কিন-ইসরাইলী ঘাঁটিসহ অন্যত্র ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেহরানের
- মার্কিন প্রস্তাব একতরফা ও অন্যায্য
- হামলায় ৮০০ মার্কিন ও ১৩২১ ইসরাইলী সেনা নিহত
- ১২ বছরের শিশুদের যুদ্ধের ময়দানে নামানোর সিদ্ধান্ত
ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে এমন মন্তব্য করে দেশটির সেনাপ্রধান বেলেছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাহিনী ভেঙে পড়বে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর মধ্যপ্রার্চের দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে সামরিক ঘাঁটিসংলগ্ন এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া মার্কিন ও ইসরাইলী ঘাঁটিসহ কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটি ও বন্দরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এদিকে মার্কিন প্রস্তাবটি একতরফা ও অন্যায্য বলে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। ইরানী হামলায় ৮৫৫ মার্কিন ও ১৩২১ ইসরাইলী সেনা নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইরান। এর বাইরে আইআরজিসি যুদ্ধের বিভিন্ন সহায়তা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শিশুদের সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করেছে। আনাদুলো এজেন্সি, রয়টার্স, হুরিয়েত ডেইলি নিউজ, বিবিসি, আল-জাজিরা, প্রেস টিভি, এপি, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান।
যুদ্ধে সেনাসংকটে ইসরাইল
ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে একাধিক সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করছে ইসরাইলী বাহিনী। এতে করে বাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইসরাইলী বাহিনী ‘ভেঙে’ পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। ইসরাইলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার ইসরাইলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইয়াল জামির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে ১০টি লাল পতাকা তুলছি।’ সেনা সংকটের কারণে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী সাধারণ অভিযানও চালাতে অক্ষম হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন ইসরাইলী সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সেনা নিয়োগ আইন, প্রাক্তন সেনাদের দায়িত্বে ফেরানো-সংক্রান্ত আইন এবং সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্বের সময়সীমা বাড়ানো-সংক্রান্ত আইনের প্রয়োজন।
মার্কিন ও ইসরাইলী ঘাঁটিতে আবারও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরএনএ এবং ফারস নিউজ এজেন্সির জানায়, এই হামলায় দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যন্ত বিধ্বংসী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ আসায় এবং শান্তি আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগিয়ে চলায় তিনি এই ১০ দিনের বিরতি দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান, আলোচনার সদিচ্ছা দেখাতে ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ দফা সংবলিত একটি ‘অ্যাকশন লিস্ট’ পাঠানো হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক জবাব তেহরান ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে হবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে কিছুটা সুর নরম করতে দেখা গেলেও হোয়াইট হাউসের বৈঠকে তিনি ইরানকে ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিতে ছাড়েননি। এমনকি ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে ইসরাইলের ভেতরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই সরকার তাদের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে।
লোকজনকে দ্রুত মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকাগুলো ছাড়তে বলল ইরানের বিপ্লবী গার্ড
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সেনাদের ‘যেখানেই পাওয়া যাবে’, সেখানেই তাদের ওপর হামলা চালানো আইআরজিসির ‘পবিত্র দায়িত্ব’। এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা বলেছে, ‘আমরা আপনাদের জোরাল পরামর্শ দিচ্ছি যে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকা আপনারা অবিলম্বে ত্যাগ করুন, যাতে আপনাদের কোনো ক্ষতি না হয়।’
বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্রদের জাহাজও হরমুজ দিয়ে পার হতে দেবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়াও তাদের মিত্রদের জাহাজও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হতে পারবে না বলে জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, আজ তিনটি ভিন্ন দেশের জাহাজ হরমুজ পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সতর্কতার পর এসব জাহাজ আবার ফিরে গেছে। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, শত্রু ও তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, “ভিন্ন দেশের তিনটি মালবাহী জাহাজ নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ সেনাদের কড়া বাধার মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।” “হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি বন্ধ। এর ভেতর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বন্ধু রাষ্ট্র বা যারা তাদের সমর্থন দেয়, তাদের কোনো বন্দরেই কোনো জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারবে না। তাদের জাহাজের যে কোনো গন্তব্য বা যেকোনো পথ ব্যবহার করাই এখন নিষিদ্ধ।”
ইরানি হামলায় ৮০০ মার্কিন ও ১৩২১ ইসরাইলী সেনা নিহতের দাবি শেকারচির
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এবং এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ইরান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি। গত বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী এখন এতাই বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে যে তারা নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহৃত হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। শেকারচির মতে, বেসামরিক স্থাপনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা আসলে মার্কিন বাহিনীর চরম পরাজয় এবং আত্মরক্ষায় তাদের অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
ইরানি জেনারেল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোও আর নিরাপদ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যে দেশই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে, তাকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তেহরান শান্ত হবে না।
গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং এখন তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান’ থেকে সরে এসে ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ গ্রহণ করেছে। শেকারচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনির দেওয়া চার দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা মার্কিন বাহিনীকে রেহাই দেবেন না।
সাক্ষাৎকারে জেনারেল শেকারচি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৮০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার সেনা আহত হয়েছে। এ ছাড়া ইরানি হামলায় ১,৩২১ জন ইসরাইলী সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও তিনি প্রদান করেন শেকারচি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানান যাতে তারা মার্কিন বাহিনীকে কোনো প্রকার আশ্রয় প্রদান না করে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কোনো দেশের ভূমি বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে সেই দেশকেও চরম পরিণাম ভোগ করতে হবে। মার্কিন ও ইসরাইলী শক্তির ওপর ক্রমাগত আঘাত এবং ন্যাটোর অনীহাÍসব মিলিয়ে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দিন ফুরিয়ে এসেছে বলেই ইরান মনে করছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিল ইরান শর্তে অনড় তেহরান
প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রস্তাবটি ‘একতরফা ও অন্যয্য’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, শান্তি আলোচনার জন্য আপাতত কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না থাকলেও কূটনীতি শেষ হয়ে যায়নি।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫টি দফার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া বুধবার রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। তেহরান এর উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও, এখনও স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সফলতার ন্যূনতম শর্তের ঘাটতি রয়েছে এবং এটি মূলত ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, যদি ওয়াশিংটনে বাস্তববাদী অবস্থান প্রাধান্য পায়, তাহলে সংকট সমাধানের জন্য এখনো একটি পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে আলোচনায় ‘আন্তরিক’ হতে হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘ভিক্ষা করছে’। এদিকে সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, ইরান তার জবাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে, শত্রু পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ‘আগ্রাসী ও গুপ্তহত্যার’ কর্মকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো যুদ্ধ হবে না, তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এছাড়াও যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের চলমান (লেবাননে) সব যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরান সমর্থিত সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চালকবিহীন ‘নৌ ড্রোন’ নামাল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে টহল দেওয়ার জন্য চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন কোনো সক্রিয় যুদ্ধে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা স্বীকার করল। এর আগে এসব নৌযান মোতায়েনের খবর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
এ ড্রোন বোটগুলো নজরদারি করার পাশাপাশি আত্মঘাতী হামলার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। চালকবিহীন নৌবহর তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির পাশাপাশি সামরিক শক্তি ও বিকল্পগুলো আরও বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই নতুন মোতায়েনের তালিকায় পদাতিক ইউনিট এবং সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। নতুন এই ১০ হাজার সেনা যুক্ত হবে এই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েনের নির্দেশে থাকা ৫ হাজার মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপারদের সঙ্গে। সেনাদের ঠিক কোথায় রাখা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
১২ বছরের শিশুদের যুদ্ধের ময়দানে নামানোর সিদ্ধান্ত ইরানের
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) যুদ্ধের বিভিন্ন সহায়তা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শিশুদের সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন। তেহরানে আইআরজিসির সাংস্কৃতিক বিষয়ক কর্মকর্তা রহিম নাদালি জানিয়েছেন, ‘ফর ইরান’ (ইরানের জন্য) নামক একটি বিশেষ উদ্যোগের আওতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টহল দল, চেকপোস্ট এবং রসদ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহার করা হবে। নাদালি বলেন, “যেহেতু স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসা ব্যক্তিদের বয়স আগের চেয়ে কমেছে এবং তারা অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে, তাই আমরা সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ১২ বছর করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ১২ ও ১৩ বছর বয়সীরা এখন থেকে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে পারবে।
ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমানের উড্ডয়ন
যুক্তরাজ্যের গ্লুস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে গত ২৩ মার্চ উড্ডয়ন করছে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ‘বি১’ বোমারু বিমান। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর এ ঘাঁটিটি বর্তমানে মার্কিন সামরিক কর্মীরা ব্যবহার করছেন। ইরানের কোমে আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা, নিহত ৬ ইরানের কোম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ এজেন্সি’কে কোমের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, ওই হামলায় তিনটি আবাসিক বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন বিলম্বের ঘোষণায় কমল তেলের দাম
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। গত বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আজ শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেÍএমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই আজ তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।
গত শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।