প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে পাঠানো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ বদর বিন হামাদ বিন হামুদ আল-বুসাইদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ চিঠি হস্তান্তর করেন।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী: চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি ব্যক্ত করেন। তিনি দেশটিতে সাম্প্রতিক হামলা, প্রাণহানি, আহতের ঘটনা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠককালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধে তাদের দেশে ইরানের আক্রমণে দুজন বাংলাদেশী নিহত হওয়ায় তার সরকার গভীর সমবেদনা জানায়। তিনি বলেন, তাদের সরকার সেদেশে অবস্থানরত সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করছেন। এর লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা।

ওমানের সুলতানকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি হস্তান্তর: চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওমানের নেতৃত্ব, সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ওমানের ওপর হামলা এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওমানে অবস্থিত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য ওমান সরকারের অব্যাহত সমর্থনের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী ওমান সরকারের যে কোন প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা এবং এই অঞ্চলে শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতি প্রসারে ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ ও তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফর করছেন।

পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সস্তোষ শর্মা এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল। এছাড়া ছিলেন অ্যাডভোকট সুব্রত চৌধুরী, তপন মজুমদার প্রমুখ নেতা।

বৈঠকের পর মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস তিনি দিয়েছেন।

জয়ন্ত জানান, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমাদের ওপর যেসব নিপীড়ন-নির্যাতন হয়েছে, আমরা বিচারবঞ্চিত হয়েছি, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের লোকজনকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করেছি। আমরা সংখ্যালঘু কমিশন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, হিন্দু ফাউন্ডেশন, দেবোত্তর সম্পত্তি আইন ইত্যাদি বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, আমরা আমাদের বিভিন্ন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।