ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় তৈরি পোশাক রফতানি গত জানুয়ারিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর রফতানিও বিভিন্ন হারে কমেছে।

ইউরোস্ট্যাটসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ থেকে ৭০৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৫ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জানুয়ারিতে ৩৮ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। তার বিপরীতে গত বছরের জানুয়ারিতে আমদানি করেছিল ৪১ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরি পোশাক।

ইইউর দেশগুলোয় তৈরি পোশাক রফতানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারিতে এই অঞ্চলে ২২২ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করে চীন। এ রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। জানুয়ারিতে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ইইউর বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ১৪৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক। এ রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। গত বছরের জানুয়ারিতে রফতানি হয়েছিল ১৯১ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক। পরিমাণের দিক থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে সাড়ে ১৭ শতাংশ। সেই হিসাবে জানুয়ারিতে রফতানি করা তৈরি পোশাকের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ইইউতে তৃতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ তুরস্ক। এই বাজারে জানুয়ারিতে ৬২ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করেছে তুরস্ক। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। অবশ্য দেশটির রফতানি করা তৈরি পোশাকের প্রতি কেজির দাম জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোস্ট্যাস্টের তথ্যানুযায়ী, ইইউতে তৃতীয় ও চতুর্থ শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ যথাক্রমে ভিয়েতনাম ও ভারত। জানুয়ারিতে ভিয়েতনাম রফতানি করেছে ৩৬ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।

অন্যদিকে ভারত জানুয়ারিতে ৩৪ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। চলতি বছরের প্রথম মাসে ভিয়েতনাম ও ভারতের প্রতি কেজি তৈরি পোশাকের দাম যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে