ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের গ্রাহকরা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী বলেন, ‘ডাকাতের ভয়ে ঘরে টাকা রাখিনি, ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি এখানেও ডাকাত! তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অনেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানান। ইউনিয়ন ব্যাংকের এক গ্রাহক জানান, মেয়াদ শেষ হলেও তিনি নিজের ডিপোজিটের টাকা তুলতে পারছেন না। এতে ঈদের সময় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে না পারা-এটা আমাদের জন্য বড় শাস্তি।’ নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ব্যাংকের ভেতরে অনিয়ম ও যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণের নামে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তাদের দাবি, দায়ীদের সম্পদ বিক্রি করে হলেও আমানত ফেরত নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসূচি থেকে আমানতকারীরা দু’টি দাবি জানান—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার এবং ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আমানত ফেরতের জন্য বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিম অনুযায়ী প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। অতিরিক্ত অর্থ প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে তোলা যাবে এবং পুরো অর্থ উত্তোলনে প্রায় ২১ মাস সময় লাগতে পারে। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, অতীতে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চালু রাখা হবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠন করে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ ব্যাংকে সরকারের অবদান ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া, প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর জন্য আমানত বিমা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।