- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজ করা
- পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না
- ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বাহিনীগুলোকে ধ্বংস করেছে
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে দিনের প্রথম কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামসুল ইসলামসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান অংশ নেন। দিনব্যাপী মোট আটটি কার্য-অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, ভূমি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা প্রশাসকেরা। সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। গত রোববার চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আজ বুধবার শেষ হবে সম্মেলন। আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক অংশ নেন।
এদিকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বীর নিবাস প্রকল্পসহ প্রতিটি সেক্টরে যে দলীয়করণ ও দুর্নীতি হয়েছে। অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে যাতে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন,সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্কের (সিভিল-মিলিটারি রিলেশন) ওপর বিশেষ জোর দেয়া এবং গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকারের যেসব খাতে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রীরা।
আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজ করা। সারাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ ধরে রাখতে ডিসিদের নিদেশনা দেয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন অধিবেশনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। সে প্রস্তাব গুলো আমলে নিয়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
তেলের অভাবে লোডশেডিং হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। গত কয়েক দিনে তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা ডিসিরা শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। চার দিনব্যাপী চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের আলোচনায় এসব প্রস্তাবের উপর আলোচনা হয়।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের আলোচনা পর্বের শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকারের মূল জায়গা অর্থাৎ যোগাযোগ খাত ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, এ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এসবের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটিও আমরা দেখব।
বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর না দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকারের কাজ শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়। এর সঙ্গে পানি সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার বিষয়ও জড়িত। পাশাপাশি সরকারের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাস্তাঘাটের আরও অনেক বেশি উন্নতি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। আগেও বলেছি, এখনো বলছি— আমরা চেষ্টা করব আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করেছি। আমরা মূল যে কথাটা বলতে চেয়েছি স্থানীয় সরকার হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। এটা হচ্ছে বেসিক তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন। এই ইনস্টিটিউশন সবসময় শক্তিশালী করতে পারলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা তাদের আরেকটা কথা বলার চেষ্টা করেছি যে, জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের সরকারের বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে কর্মসূচিগুলো নিয়েছেন, সেই কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারা সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার কারণে কোথাও কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা ‘ফল্ট’ দেখা দিলে তা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় ব্যয় হয়। এই কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও লাইন মেরামতের পর দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, যাকে সাধারণ অর্থে লোডশেডিং বলা চলে না।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে তেলের কোনো সংকট দায়ী ছিল না। বরং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এমন সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তেলের অভাবে লোডশেডিং হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। এছাড়া গত কয়েক দিনে তেল নিয়ে যে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই অর্জনকে আমরা লালন করি এবং ধারণ করি। এই অর্জনকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধরে রাখতে এবং জাতির কাছে চিরদিনের জন্যে স্মরণীয় করে রাখার জন্যেই তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, বিভিন্ন জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসনে ডরমেটরি ও স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দাফতরিক কার্যক্রম সহজ করতে সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবন সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এছাড়া রাজউক, বিভাগীয় শহরগুলোর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিজেপি। ক্ষমতার এই পরিবর্তন, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বদল আসবে না।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমাদের বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রোস দ্য বর্ডার একই থাকবে। আমাদের বাংলাদেশ প্রথম বা বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমাদের ফরেন পলিসি। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, সেই সঙ্গে আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগোব।’
ডিসি সম্মেলনে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যখন আমরা অবৈধ অভিবাসনের কথা বলি, সেগুলো যদি রোধ করতে হয়, আমাদের নাগরিকেরা, বাংলাদেশিরা যে বিভিন্ন দালাল চক্রের হাতে পড়ে বিদেশে বিপদে পড়ছেন, অনেক সময় তাঁরা মৃত্যুবরণ করছেন—এসব যদি আমাদের রোধ করতে হয়, তাহলে আমাদের জেলা প্রশাসকদের একটা বড় ভূমিকা আছে।
ফ্যাসিস্ট সরকার বাহিনীগুলোকে ধ্বংস করেছে
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, যে রাষ্ট্রের সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল থাকে, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনও স্থায়ী হয় না।
১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রার কথা স্মরণ করে ড. শামছুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এই দেশের জনগণেরই বাহিনী। জাতির যেকোনও ক্রান্তিলগ্নে তা ঘূর্ণিঝড় হোক বা অন্য কোনও দুর্যোগ— তারা জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন,সম্প্রতি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বেসামরিক প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। একটি অসাধু চক্র নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরার চেষ্টা করলেও তারা সফল হতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আর শুধু ভৌগোলিক অখন্ডতা বা প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “সাইবার হামলা, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মতো বহুমাত্রিক হুমকি এখন আমাদের নিরাপত্তার অংশ।”
তিনি জানান, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘টোটাল পিপল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক জনযুদ্ধের ধারণাকে পুনরায় সক্রিয় করছে। এর অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই বিএনসিসি এবং আনসার-ভিডিপিকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার রূপরেখা বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প (ইনডিজেনাস ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি) গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘ক্রেডিবল ডিটারেন্স’ বা বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।
বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু পশ্চিমা বা বিদেশি পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, টেররিজম, এক্সট্রিমিজম মতো শব্দগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশ একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। এখানে এক গ্রামে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে। তাই এই শব্দগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে সাবধানতা অবলম্বনের অনুরোধ করছি।
তিনি ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, সৈনিকরা সমাজের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর শৃঙ্খলার জীবন বেছে নেন। আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি একটু সংবেদনশীল হলে, তাদের কাজগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে একটু সহজ করে দিলে তারা সম্মানিত বোধ করবেন এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই ইতিবাচক হবে।”
বিগত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসন এবং পরবর্তী দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া কৃত্রিম ক্ষতগুলোর কথা উল্লেখ করে ড. শামছুল ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে আমাদের বাহিনীগুলোকে ধ্বংস করেছে, আমরা তার উল্টো পথে হাঁটবো। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।