• গেরিলা ও অসম যুদ্ধে ইরান ভালোভাবেই অভিজ্ঞ
  • ইসরাইলের যুদ্ধ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
  • নজিরবিহীন সংকটে ১২ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ছাঁটাই

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-১৩০ পরিহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক কপ্টার ভূপাতিত করেছে তেহরান। এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাতে পড়া ঠেকাতে নিজেদের দুই বিমান ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এছাড়া ইরান ট্রাম্পের ইরানী ব্রিজে হামলার হুমকিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক অভিযানের ব্যর্থতা ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি ঢাকতেই এসব হুমকি দিচ্ছে। ইরান বলেছে, তারা গেরিলা ও অসম যুদ্ধে বেশ ভালোভাবেই অভিজ্ঞ। ট্রাম্পের আল্টিমেটামের পর ইসরাইল ও কুয়েতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছিলেন তা মানতে অস্বীকার করায় নজিরবিহীন সংকট দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, প্রেস টিভি, দ্য গার্ডিয়ান, গালফ নিউজ, রোয়া নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, মিডল ইস্টআই।

একটি মার্কিন বিমান ও দুটি ‘ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার’ ভূপাতিত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ ঘটনার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে শত্রুপক্ষের বেপরোয়া ও শত্রুতামূলক অভিযানের সময় ইসফাহানের দক্ষিণে তাদের আক্রমণাত্মক বিমান আঘাত হেনে ধ্বংস করা হয়েছে।’

ইরান এ ঘটনাকে তাদের বড় ধরনের বিজয় হিসেবেও তুলে ধরছে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় কোনো সক্ষমতা নেই। কিন্তু একের পর এক মার্কিন বিমান লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরান সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

‘বড় চমক’ আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য শিগগিরই ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। চলমান সংঘাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে ইরান এবং একাধিক ‘বিশেষ টার্গেট’ রয়েছে তাদের। এসব টার্গেটে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চমকে দেওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা ফারস নিউজে গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলার তালিকা সঠিক নয়। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি ব্রিজে হামলার হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি। তার মতে, নিজেদের সামরিক অভিযানের ব্যর্থতা ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি ঢাকতেই এসব হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি দাবি করেন, গেরিলা ও অসম যুদ্ধে ইরান বেশ ভালোভাবেই অভিজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল দ্রুত ও সহজ হামলার মাধ্যমে ইরানকে হারাতে। কিন্তু তাদের সে কৌশল ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য একটি বড় চমক প্রস্তুত করে রেখেছি। খুব শিগগিরই তারা সেই চমক দেখতে পাবে। দক্ষিণ ইরানে তারা যা করেছে, সেখানকার পরিস্থিতিও হয়তো আমাদের অনুকূলে চলে আসবে।

ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ॥ সরানো হলো বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের সব কর্মীকে

ইসরাইলের জাফায় অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্লাস্টার (গুচ্ছ) ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।

ইসরাইলী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে একটি সন্দেহজনক প্যাকেজ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়।

ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে না ফ্রান্স

ফ্রান্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা ইসরাইলকে কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ তথ্য জানান ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রিন।

তিনি বলেন, ফ্রান্স ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে না। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য কিছু যন্ত্রাংশ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেমন আইরন ডোমের উপাদান। এছাড়া কিছু সরঞ্জাম শুধুমাত্র পুনঃরপ্তানির জন্য অনুমোদিত, যার একটি অংশ আমাদের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়।

এর আগে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসনে অংশ নেবে না ফ্রান্স।

ম্যাক্রোঁর এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্রান্সকে আর ইসরাইলের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কথিত আগ্রাসনের বিষয়ে তিনি নীরব অবস্থান নিয়েছেন।

আবুধাবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবির বোরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলেছে, আবুধাবির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা প্রতিহত করার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুন লাগার পর পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

কর্তৃপক্ষ জনগণকে তথ্যের জন্য শুধু সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি এমন গুজব কিংবা খবর শেয়ার করা এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরব আমিরাতের জাতীয় জরুরি সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আজ রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৪টা মিনিটে আমিরাতের আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি শনাক্ত করে এবং সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করে।

বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং সতর্কতা ও পরবর্তী খবরের জন্য সরাসরি সরকারি চ্যানেলগুলো অনুসরণ করার অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইসরাইলের যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা দেশটির উপকূল থেকে ৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত একটি ইসরাইলী সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজটি লেবাননের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে নজরদারি চালানোর পর তারা এই হামলায় একটি নাভাল ক্রুজ (নৌ) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইরানের হাতে পড়া ঠেকাতে নিজেদের দুই বিমান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিবহন বিমান বিকল হয়ে যায়। এগুলো যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য বিমান দুটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই-এর পাইলট ও ক্রুকে উদ্ধারে পরিচালিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এ অভিযানের নতুন নতুন তথ্য এখন সামনে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল কয়েক ধাপের একটি জটিল উদ্ধার অভিযান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! তিনি এখন নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

ট্রাম্প আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা একজন ‘কর্নেল’। অভিযানে তিনি কিছুটা আহত হলেও এখন আশঙ্কামুক্ত। এই বিশাল অভিযানে কয়েক ডজন বিমান অংশ নিয়েছিল বলেও জানান ট্রাম্প।

নিখোঁজ ক্রুকে ফিরিয়ে আনতে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিলাম

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিখোঁজ ক্রুকেও উদ্ধার করার বিষয়টি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উদ্ধার হওয়া ওই ক্রুকে একজন ‘কর্নেল’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থানের ওপর নজর রাখছিল এবং তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করছিল।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় আমাদের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। আমাদের অসাধারণ একজন ক্রু সদস্য, যিনি একজন সম্মানিত কর্নেল । আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে তিনি এখন পুরোপুরি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই ক্রুকে ফিরিয়ে আনতে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল। এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের আলটিমেটামের পর ইসরাইল ও কুয়েতে হামলা চালাল ইরান

ইসরাইল ও কুয়েতে স্থানীয় সময় রোববার ভোরে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

এ হামলার এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় দেশটির ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

কুয়েত ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের সর্বশেষ হামলার জবাব দিচ্ছে।

ইরান ইস্যুতে ১২ শীর্ষ কর্মকর্তা ছাঁটাই

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির এক ডজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল এই নির্দেশ অমান্য করায় হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

জেনারেলদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে,এটি কি ‘অবৈধ নির্দেশ’ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনি অবস্থান নেওয়া, নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি সামরিক বাহিনীর অবাধ্যতার প্রকাশÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের মার্কিন হামলার সমর্থকরা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, সামরিক কৌশল নির্ধারণে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্টের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং পেন্টাগনের যেকোনও ধরনের বাধা সরাসরি কমান্ড কাঠামোর লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, এই নির্দেশের বিরোধীরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে; পেন্টাগনের এমন নীতির ক্ষেত্রে দেশটির শীর্ষ সেনা জেনারেলরা প্রয়োজনীয় বাধা হিসেবে কাজ করছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, অভিজ্ঞ সমরকৌশলীদের সরিয়ে রাজনৈতিক অনুগতদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশৃঙ্খল এবং অপ্রয়োজনীয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে।

মার্কিনিরা যখন এই ধরনের পরিস্থিতি দেখছেন, পেন্টাগন তখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এসব শূন্যপদ কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান অভিযানগুলোর ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এই দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধের ছবি প্রকাশ না করতে স্যাটেলাইট কোম্পানিকে অনুরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

শনিবার গ্রাহকদের ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মার্কিন কোম্পানিটি। বেশ কিছু গণমাধ্যম তাদের বরাতে বলেছে, স্যাটেলাইট চিত্র প্রদানকারীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছবি প্রকাশ স্থগিত রাখতে বলেছে মার্কিন প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবারই প্রথম নয়, এর আগেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্ল্যানেট ল্যাবস গত মাসে ওই অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের ওপর ১৪ দিন বিলম্বের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অর্থাৎ, কোনও ছবি তোলার ১৪ দিন পর সে ছবি প্রকাশ করা হবে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ৯৬ ঘণ্টার বিলম্ব আরোপ করেছিল কোম্পানিটি।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে এসব চিত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা। প্ল্যানেট ল্যাবস বলেছে, তারা গত ৯ মার্চ থেকে তোলা কোনও ছবি আর প্রকাশ করবে না। তারা আশা করছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারবে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) সাবেক এক বিজ্ঞানী ২০১০ সালে প্ল্যানেট ল্যাবস প্রতিষ্ঠা করেন। প্ল্যানেট ল্যাবস তাদের গ্রাহকদের কাছে পাঠানো ই-মেইলে বলেছে, তারা ছবি ‘নিয়ন্ত্রিত বিতরণব্যবস্থায়’ যাবে, যাতে ছবিগুলো থেকে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়।

নতুন ব্যবস্থায় প্ল্যানেট ল্যাবস প্রতিটি ছবির বেলায় সেটি কতো জরুরি, কেমন অভিযান বা কতো গুরুত্বপূর্ণ অথবা জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পানিটি আরও বলেছে, “এ রকম বিশেষ পরিস্থিতিতে, আমাদের সব অংশীদারের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব, আমরা তার সবই করছি।”

তবে মহাকাশ বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চলের ছবি প্রাপ্তি থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তেহরান মার্কিন শত্রু দেশগুলোরে মাধ্যমে এসব ছবি পেতে পারে।