জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং গুম প্রতিরোধসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা ডাবের পানি পান করে অনশন ভাঙেন।
অনশন ভাঙানোর সময় শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, সাইদুল ইসলাম, জাবের ও সৈকতের বাবা এবং অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। অনশন ভাঙার পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এর আগে, সরকার বা বিরোধী দল- কোনো পক্ষ থেকেই দৃশ্যমান আশ্বাস না পাওয়ায় অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এরআগে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান। পরদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ অনশনে অংশ নেন। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে ছিল, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা। এছাড়া, গণভোটে উল্লিখিত বিষয়ের পাশাপাশি জুলাই সনদের অন্যান্য বিষয় বাস্তবায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তারা।
অনশনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য ও ছাত্রনেতারা সংহতি প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদসহ আরও অনেকে।
এছাড়া পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদও সংহতি জানান। শুক্রবার রাত ১০টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং তাদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তখন শিক্ষার্থীরা তার আহ্বানে সাড়া দেননি। প্রায় ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।