আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবেন। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করবেন। এমনটাই ধারণা করছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারণার দাবি জানায় ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি বেশকিছু সুপারিশও করা হয়।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এত অল্পসময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পরিবহন করার মতো মানসম্মত গণ পরিবহন দেশে নেই। বক্তারা বলেন, তাই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ যানবাহনে যাত্রা করবেন। এই প্রেক্ষাপটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি যেমন দরকার, তেমনি নিরাপদ যানবাহন বৃদ্ধি করা এবং জনসাধারণকে সচেতন করাও জরুরি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সরকারের প্রতি যেসব সুপারিশ করা হয়- আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। মানুষকে নিরাপদ ঈদ যাত্রায় উৎসাহিত করতে টেলিভিশনে এবং বিটিআরসির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার পরিবহন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মানসম্মত গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে। ত্রুটিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সিটি সার্ভিস বাস মহাসড়কে চলাচল রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাতের বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পিড ব্রেকার, সাইন-মার্কিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। ঈদ যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। ঈদে ঘরমুখী এবং ফিরতি যাত্রায় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের সকল হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার করতে হবে।