- নিখোঁজ ক্রুকে জীবিত ধরিয়ে দিলে ৬৬, ১০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা
- হরমুজ দিয়ে জরুরি খাদ্যপণ্য চলাচলে অনুমতি
- ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত
- সৌদীতে মার্কিন দূতাবাসে ইসরাইল হামলা করেছে
- ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তেহরানের
ইরানের ভূপাতিত এফ-১৫ ই যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে গত শুক্রবার উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়ে। উদ্ধার অভিযানকালে একটি ‘এ-১৫ ওয়ারথস’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। ইরান নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া পাইলটকে উদ্ধার করা খুব বিপজ্জনক কাজ বলে মনে করছেন মার্কিন সমরবিদ। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে মানবিক ও কৌশলগত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াই ইরান এ পর্যন্ত ১৬০টির বেশি শত্রু পক্ষের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয়, ইসরাইল হামলা করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তাসনিম নিউজ, এপি, দি হিন্দু, রয়টার্স, আনাদুলো, আল-জাজিরা, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ক্রু উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার
ইরানে ভূপাতিত করা ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে গত শুক্রবার উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানকালে একটি ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরানি সেনাবাহিনীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত হানা হয়েছে। পরে সেটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়। গতকাল এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার আগে ইরানের আকাশে ‘এফ-১৫ই’ মডেলের একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সেটির একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যজন নিখোঁজ। তার সন্ধানেই ওই বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ভূপাতিত করার দাবি করা দ্বিতীয় বিমান এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমান (হামলার মুখে পড়া যুদ্ধবিমান) একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘না, মোটেও না। এটা তো যুদ্ধ।’
নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত ধরিয়ে দিলে ৬৬, ১০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত করা মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে একটি ইরানি টেলিভিশন চ্যানেল। ‘সামরিক বাহিনী নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের নাগরিকেরা, আপনারা যদি শত্রুপক্ষের পাইলট বা ক্রুদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন, আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।’ কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশটি মূলত একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইরানি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সাধারণ মানুষকে তল্লাশি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া টেলিভিশনের স্ক্রিনে এক বার্তায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখামাত্র ‘গুলি করার’ আহ্বান জানানো হয়।
পুরস্কার ঘোষণার পর স্থানীয় অনেক নাগরিক নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন ওই পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বার্তায় জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের অনেক মানুষ পাইলটকে ধরার জন্য দুর্ঘটনাস্থলের দিকে গেছেন। তবে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন ওই পাইলট কোনোভাবেই লাঞ্ছিত না হন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ওই ‘অপরাধী মার্কিন পাইলটকে’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বিলিয়ন তুমান বা প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৬ হাজার ১০০ ডলার বা প্রায় ৮১ লাখ টাকা) পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ‘এফ-১৫ই’ মডেলের। এ ধরনের যুদ্ধবিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনে একজন ‘ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার’ থাকেন। বিমানের দুই পাইলটের একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে দ্বিতীয়জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান নিখোঁজ সেনার খোঁজে ইরানের ওই পাহাড়ি এলাকার অনেক উঁচু দিয়ে চক্কর দিচ্ছে।
ইরানে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ক্রুর খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান
গত শুক্রবার ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুর সন্ধানে দক্ষিণ ইরানের আকাশে ঝুঁকি নিয়ে চক্কর দিচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো। ভিডিওটি তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুর সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রুদ্ধশ্বাস অভিযান
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু বা সেনাকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলছেন, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি ইরানও তাকে খুঁজে বের করার দৌড়ে নেমেছে। তাই তাকে খুঁজে বের করা উত্তেজনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক কৌশলবিদ জেমস জেফরি বলেন, ‘আমার জানামতে, এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক অভিযান।’ জেফরি এর আগে সিরিয়া ও ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। সহায়তার জন্য থাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং পাহারায় থাকে অন্যান্য যুদ্ধবিমান। গতশুক্রবার ইরান থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে খুজেস্তান প্রদেশের আকাশে এ ধরনের একটি অভিযান চলতে দেখা গেছে।
বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান হবে ‘খুবই বিপজ্জনক’: সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা
ইরানে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা খুব বিপজ্জনক কাজ বলে মনে করছেন মার্কিন সমরবিদ। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা হারলান উলম্যান এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে বলেছেন, বিধ্বস্ত এফ–১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের যেকোনো মার্কিন অভিযান হবে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’। উলম্যানের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত এই অভিযানে হেলিকপ্টার ও এসি–১৩০ গানশিপ ব্যবহার করে পদাতিক বাহিনী নামাবে। এসব যান খুব নিচু দিয়ে ওড়ে। যার ফলে এগুলো শত্রুপক্ষের আক্রমণের মুখে পড়ার ব্যাপক ঝুঁকি থাকে। উলম্যান বলেন, ‘আমাদের উদ্ধারকারী দলগুলো অবশ্য এই কাজে বিশ্বের সেরা। নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে বড় প্রশ্ন হলো—পাইলট এখন কী অবস্থায় আছেন? প্যারাস্যুটে নামার সময় তিনি কি আহত হয়েছেন? তার কাছে কি বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত রসদ আছে? আর আমরা কি তাকে উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারব?’
হরমুজ দিয়ে জরুরি খাদ্যপণ্য চলাচলে অনুমতি ইরানের
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে মানবিক ও কৌশলগত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরান। জরুরি খাদ্যপ্রণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর বা ওমান উপসাগরের নির্ধারিত নোঙরস্থানে যাওয়ার পথে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারের জারি করা অনুমোদন ও নির্দেশনার পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির আশ্বাসের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ও প্রোটোকল মেনে চললে প্রণালীটি দিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং বর্তমানে বিস্তারিত পরিচালন নির্দেশিকা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও এ পর্যন্ত ১৬০টির বেশি শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে
ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো পরিদর্শনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি জানিয়েছেন, ইরানি ইউনিটগুলো সফলভাবে শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ভূপাতিত করা ড্রোনের মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোনও রয়েছে। এলহামি উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা আক্রমণকারীদের ‘কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা’ ভেঙে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের জন্য ওত পেতে আছে। এলহামি জানান, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির ইউনিটগুলোর মাধ্যমে চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের একাধিক শত্রু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি তাদের কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক সরঞ্জামের উদ্ভাবনী ব্যবহার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৈপুণ্যেরই ফল। এটি শত্রু বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এলহামি বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে ইরানের আকাশ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
মোসাদের সদরদপ্তরে ইরানের হামলা
ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদরদপ্তরকে লক্ষ্য করে একটি ‘নির্ভুল হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম । ইরানি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা স্থাপনাকে নিশানা করা হয়। হামলাটি ইসরাইলের শহর তেল আবিবে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরাইলী হামলা
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরাইলী বাহিনী মাহশাহ’র বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহ’র পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয় নিশ্চিত ইসরাইল হামলা করেছে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, এ হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই’, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরাইলের যে কৌশল, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে তারাই ঘটিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এছাড়া প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে এ অঞ্চলে ইসরাইলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবুধাবিতে ইরানি হামলায় আগুন
মিসরীয় নাগরিক নিহত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইরানের একটি বিমান হামলা প্রতিহত করার পর ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে সৃষ্ট আগুনে এক মিসরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার আবুধাবি সরকারি মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাবশান গ্যাস স্থাপনায় আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের ফলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আরও চারজন প্রবাসী সামান্য আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন মিসরীয় এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক। তবে আবুধাবি সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নাকি ড্রোন প্রতিহত করেছে। মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মূল্যায়ন চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ গত শুক্রবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। নাম প্রকাশ না করা সূত্রটি জানায়, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।
ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইসরাইলের তেল আবিবে কিরিয়া সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ আঘাত হেনেছে। এই ঘাঁটি ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শনিবার সকালে এই হামলায় ওই ঘাঁটির পাশের একটি পার্কিং লট এবং নিকটবর্তী একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
এদিকে রামাত গানে ক্ষেপণাস্ত্রের ক্লাস্টার ওয়ারহেডের আঘাতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ)’ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ভেতরে বাসিন্দাদের আটকা পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।