বাংলাদেশে স্বাস্থ্যে বাজেট একেবারেই কম। এতো কম বাজেট বরাদ্দ থাকার পরও স্বাস্থ্যে বাংলাদেশে অনেক সফলতা আছে। আফগানিস্তান সম্বন্ধে সবাই জানে- যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ, সেই দেশে তাদের জিডিপি’র ২ থেকে৩ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় স্বাস্থ্যখাতে। কিন্তু বাংলাদেশে বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ বরাদ্দ থাকে। সেই টাকাও খরচ করতে পারে না, বছর শেষে ফেরত যায়। অপরদিকে বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসা করাতে নিজের পকেট থেকে ৭০ শতাংশ ব্যয় করে থাকে কিন্তু জাপানের মতো উন্নত দেশে ধনী মানুষকেও মাত্র নিজের পকেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জার্নাল লেনসেট, ‘রহস্যজনক উন্নতি’ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে।

গতকাল বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত সেমিনারে বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নানা দিক তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) অনুষ্ঠিত সেমিনারে এনডিএফ’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন এনডিএফ’র সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. সাজেদ আব্দুল খালেক, অপর সিনিয়র সভাপতি ডা. একেএম ওয়ালীউল্লা, জেনারেল সেক্রেটোরি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আলোচনা করেন, বাংলাদেশ বিএমইউ’র সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মো: শাহীনুল আলম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খুরশিদ আলম মিয়া, মুগদা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডা. মো: শহীদুল আলম আকন, বিএমইউ’র রিউমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ, বিএমইউ’র এন্ডোক্রঠননোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুর জাহান উর্মি। সঞ্চালনা করেন বিএমইউ’র নিউরো সার্জরি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীরুল ইসলাম।

অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাজেট কম কিন্তু তারপরও প্রচুর সফলতা আছে। বিখ্যাত জার্নাল লেনসেট বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা চিকিৎসা উন্নতিকে রহস্যজনক বলছে এসব কারণে। রহস্য সম্বন্ধে তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ না হলেও বাংলাদেশে হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট করে। এগুলো বিজ্ঞান ভিত্তিক না, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য এদেশে এবং সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হন সাধারণ মানুষ ও রোগীরা। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জ্ঞানকে আধুনিক শিক্ষার সাথে মিলিয়ে অর্জন করুন। নীতি-আদর্শ ও ধর্ম একত্রিত করে চিকিৎসা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিন।

অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আকন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুড গভার্নেন্সের অভাব বলে অনেকেই রিস্কি কাজে হাত দেন না, পরে যদি জবাবদিহীর নামে হয়রানী করা হয়। এখানে সৎ লোক কাজ করলে সরকারি কোনো প্রটেকশান পান না। ফলে তারা বাজেট খরচ করতে পারেন না, ফেরত যায়। সে কারণে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন দেখা যায় না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই মেশিনে এখানকার ডাক্তাররাই এমআরআই করেন না। এটা সবচেয়ে দামী মেশিন, কিন্তু সবচেয়ে পুরনো মডেলের। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো সৎলোক পিডি হতে চান না। অডিটরকে ১৫ শতাংশ দিয়ে দিতে হয়, একজন সৎ ডাক্তার কোথা থেকে ১৫ শতাংশ টাকা দেবেন। যারা পিডি হন তাদের অনেকেই ফলে কম্প্রোমাইজ করেন শেষ পর্যন্ত।

অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, আমরা ডাক্তারদের অটোমেশন নিয়ে আন্দোলন করছি করে যাবো। আমরা মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেব। পাশের দেশ ভারত কোনো একটা বিষয়ে ডাক্তাররা ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিবৃতি দিতে পারে কিন্তু বাংলাদেশে আমরা পারি না শুধু রাজনীতির জন্য। ঐক্যবদ্ধ না হলে নিজেদেরও উন্নতি হবে না, বাংলাদেশের স্বাস্থেরও উন্নতি হবে না।