আসন্ন ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি কোনো বাংলাদেশি মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ আসন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করবে। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের ধারা বদলে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার। সফরে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। ঢাকা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে বর্ণনা করলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তার আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা দিল্লির সঙ্গে পূর্বের কিছুটা টানাপোড়েন কাটিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ককে পারস্পরিক লাভজনক অবস্থানে নিতে চায়।
সফরে বাংলাদেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শাহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের মতো ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে আমরা তাদের দ্রুত প্রত্যার্পণ দেখতে চাই। বাংলাদেশ ভারতকে ভিসা সেবা পুরোপুরি পুনরায় চালুর বিষয়ে আরও ইতিবাচক অবস্থান নিতে অনুরোধ করবে, বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনা বিবেচনায়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। সীমান্তে প্রাণহানি এড়াতে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেবে ঢাকা। জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। পানি বণ্টন ইস্যু, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি এবং গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়েও আলোচনা উঠবে। বাণিজ্য সহজীকরণ, শুল্ক-বহির্ভূত বাধা কমানো এবং লজিস্টিকস উন্নয়নও আলোচ্য সূচিতে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। পরে তিনি মরিশাসে ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে যাবেন। ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও তার সঙ্গে থাকবেন। ভারত মহাসাগর সম্মেলন ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত হবে।