বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড়

পুলিশ গুলি করেনি, বলছে সরকার

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছিল তারই গড়া সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচির ওপর দুই দফা পুলিশী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিন পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাবমঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ জাবের, ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ কয়েকজন নেতাসহ অনেকে রক্তাক্ত আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমে হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পুলিশ গুলিবর্ষণ করেনি। একই কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষের পৃথক ঘটনায় মোট ৯৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা করে পুলিশ। এর আগে বিকালে হামলা করা হয়। এতে অনেকে আহত হন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় দফায় হামলা শুরু হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল।

এর আগে সন্ধ্যা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বারডেম হাসপাতালের পাশ থেকে পুলিশের একটা দল হোটেল ইন্টাকন্টিনেন্টাল মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। তাদেরকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে ধাওয়া দেয়।

ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিক থেকে পুলিশের অন্য সদস্যরা এসে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্যভবন ও কাটাবন সড়কে গিয়ে অবস্থান নেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ইনকিলাবমঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিক্ষোভ করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে সেখান থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী রক্তাক্ত আহত হন।

আহতরা হলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম ঝুমা, রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মার, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, উমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামিম, সোহেল, শাওন, জাবেদ ও শামিম। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘জাবের গুলীবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।’

হাসপাতালে আহত ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ‘পুলিশ আমাদের ওপরে বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড নিক্ষেপ করেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরসহ আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন। জাবেরের পায়ে গুলী লেগেছে।’

এদিকে আবদুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডি থেকেও জানানো হয়, পুলিশী হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তিনি গুলীবিদ্ধ। সেখানে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপাতত জমায়েত না করতে এবং চিকিৎসা নিয়ে পরে আবার কর্মসূচিতে ফেরার কথা। এর আগে হাদী হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে নেওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানিয়ে আসছেন, এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাতভর অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন হাদীর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, আবদুল্লাহ আল জাবের এবং ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অন্যরা।

এদিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের লোকজন ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ করে।

পুলিশ প্রথমে তাঁদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনিসহ উপস্থিত লোকজন প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ের দিকে চলে যায়।

সরকারের ব্যাখ্যা

এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার। সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলী ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (খবঃযধষ বিধঢ়ড়হ) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলীর আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

ডিএমপির বক্তব্য :

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের পাশে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাকশনের বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। তাদের দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে এবং এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলী ব্যবহার করা হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকলেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তালেবুর রহমান জানান, এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে এবং এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলী ব্যবহার করা হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান তালেবুর রহমান।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রারত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল, বুট ও গুলীর মাধ্যমে দমন করার ঘটনা নিন্দনীয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ এবং গুলীবর্ষণের ফলে যেভাবে সাধারণ আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন, তা ন্যক্কারজনক। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলীবিদ্ধ হওয়া এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদের মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, সব সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অন্যায়, জুলুম ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবং ভবিষ্যতেও ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশে থাকবে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই দমননীতি পরিহার করে জনগণের ন্যায্য দাবি শোনার পথ বেছে নিতে হবে।