বইমেলার দশম দিনে শিশু প্রহরে শিশুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বইমেলায় এসে খুশিতে আত্মহারা শিশুরা। মেলায় আসা শিশুরা কিনছে পছন্দের নতুন নতুন বই। বিক্রেতারা জানিয়েছে, বেশিরভাগ শিশুরই পছন্দ বিজ্ঞান ও কল্পকাহিনী। অভিভাবকরা বলছেন মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে বইমেলার এমন আয়োজন খুব কার্যকর।

মেলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি বাইরের জগতের সঙ্গে শিশুর মনোজগতের পরিবর্তন ঘটে বইমেলার পরিবেশে। শিশুদের স্টলগুলোতে বই বিক্রি নিয়ে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হলেও বেশিরভাগই বলছেন বিক্রি ভালো না।

নিজ শিশুকে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সকাল সকাল বইমেলায় শিশুদের নিয়ে প্রবেশ করেন অভিভাবকরা। শনিবার ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয় শিশু প্রহর। শিশু প্রহরের শুরুতেই শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু চত্বরে কাকতাড়ুয়া প্রদর্শনী, বায়স্কোপে কুজি বুড়ির গল্পসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে; যেখানে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন অভিভাবকরাও। শিশুদের স্টলে দেখা যায় ভিড়। পছন্দের বই কিনে খুশি শিশুরা।

শিশু প্রহরে বই বিক্রেতাদের মধ্যে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বই বিক্রির অবস্থা নিয়ে হতাশার কথা জানালেও কেউ জানাচ্ছেন সন্তুষ্টির কথা। শনিবারের বইমেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আর শিশু প্রহর শেষ হয় দুপুর ১টায়। মেলার কয়েকজন প্রকাশক জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ এখন কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে। ফলে বই কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বিক্রিতে পরিবর্তন না এলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।

এদিকে, এবারের বইমেলায় প্রতিদিনের মতো নতুন বই জমা দেওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মেলায় নতুন বই জমা পড়েছে ১৯৯টি। সব মিলিয়ে এবারের অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ মোট নতুন বই জমা হয়েছে ৫৭৩টি।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনসহ বিশেষ প্রেক্ষাপটে এ বছর বইমেলা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও মেলাকে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, মেলার শেষভাগে দর্শক উপস্থিতি ও বই বিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের প্রত্যাশাÑমেলার শেষের দিনগুলোতে দর্শনার্থী ও বই বিক্রি দুই-ই বাড়বে এবং ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাবে বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন।