পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনোত্তর সময়ে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন।
শিল্পপতি ও লেখক ড. বিনোদ চৌধুরীর ‘মেড ইন নেপাল’ বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আইসিসি বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইসিসি বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য সিজি-কর্প গ্লোবালের চেয়ারম্যান বিনোদ কে. চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), আইসিসিবির সহ-সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় ও নির্বাহী বোর্ড সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে নেপালের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে বিনোদ কে চৌধুরীর যাত্রার কথাও তুলে ধরা হয়, যা উদীয়মান বাজারে উদ্যোক্তা, সহনশীলতা এবং উদ্ভাবনের শিক্ষা দেয়।
মিন্টু বলেন, আপনাদের আমার বক্তব্যটি প্রেক্ষাপটের আলোকে বুঝতে হবে। আমি ১৭৫০-এর দশকে ফিরে যেতে চাই। আপনারা যদি অ্যাডাম স্মিথের ‘দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস’ বইটি পড়েন, তাহলে দেখবেন সেখানে বলা হয়েছে যে, যদি আপনি আপনার সমাজের উন্নতি করতে চান, যদি আপনার দেশকে সমৃদ্ধ করতে চান, তবে আপনাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক অংশীদার।
মন্ত্রী বলেন, আপনি যদি বৈষম্য কমাতে চান, দারিদ্র্য কমাতে চান, তবে মৌলিক বিষয় হলো সমাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না; যেমন নেপালে দেশের এক-তৃতীয়াংশ পরিবারের এক বা দুজন সদস্য চাকরির জন্য দেশের বাইরে থাকেন। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। তিনি বলেন, আজ আমাদের অর্থনীতির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসলে রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, রেমিটেন্স আসছে সেইসব মানুষদের কাছ থেকে যারা বাংলাদেশের বাইরে কর্মরত, কারণ আমরা দেশে তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারিনি। সুতরাং, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে এমন একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এমন একটি দেশে বিনিয়োগ করতে নিরাপদ বোধ করেন যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। আর আমি মূলত কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলছি। ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কিত অনেক বিষয় রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয় খুবই মৌলিক।
মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ। আমাদের দেশে মূলত এই সবকিছুরই অভাব রয়েছে। আমি আইন নিয়ে বেশি কথা বলব না, আমি আমার নিজের দেশের কথাই বলছি।
এখন দুর্ভাগ্যবশত, আমি যে চারটি বিষয় উত্থাপন করেছি, তার সবই ব্যবসার উপর নয়, বরং রাজনীতির উপর নির্ভরশীল। তাই রাজনীতি এবং অর্থনীতি যমজ ভাইয়ের মতো; একটি ছাড়া অন্যটি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। সুতরাং, আমি এমন কোনো দেশ দেখিনি যেখানে সত্যিকারের ভালো রাজনীতি আছে কিন্তু অর্থনীতি খুব খারাপ।
আইসিসি বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে যখন আমাদের অর্থনীতি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি—যেমন সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত, আর্থিক অস্থিরতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ—তখন এই ধরনের সফলতার গল্প আমাদের জন্য দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে উদ্যোক্তাবাদই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য—যেখানে মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা মনোভাব অত্যন্ত শক্তিশালী—এই বইয়ের শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বৈশ্বিক সাফল্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দৃঢ় সংকল্প, কৌশলগত চিন্তা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আমাদের মতো অঞ্চল থেকেও সেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।