পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের কুরআন মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুরে দিনব্যাপী হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাফরুল, মিরপুর, পল্লবী, দারুস সালাম ও রূপনগর থানা এলাকার প্রায় এক হাজার প্রতিযোগী এতে অংশ নেয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা প্রকল্পের পরিচালক খালিদ সাইফুল্লাহ বকসীর সভাপতিত্বে এবং প্রতিযোগিতার পরিচালক মাওলানা এ এম এম কামালুদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান অতিথি ছিলেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সম্মান পাবেন আমাদের হাফেজে কুরআন, সবচেয়ে বেশি সম্মান পাবেন আমাদের ওলামায়ে কেরাম। আমরা শিশুদের মধ্যে কুরআন মুখস্থ করার উৎসাহ এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমরা একটি কুরআনিক সমাজ, একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং একটি ঘুষমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। কিন্তু নানা ছলেবলে ও তদবিরের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, “কুরআনের কথা বললে অনেক সময় মৌলবাদী, রাজাকারসহ নানা ধরনের ট্যাগ দেওয়া হয়। অথচ এই দেশ অসংখ্য আলেম-ওলামার দেশ। দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কুরআনের শিক্ষা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “কুরআনের আলোকে আমরা বাংলাদেশের পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ। আগামীর স্থানীয় নেতৃত্বে আমরা ধার্মিক, সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু মানুষের নেতৃত্ব দেখতে চাই। এমন নেতৃত্বই দেশ ও সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।”
আয়োজনটি সফল করতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন ফোরামের উপদেষ্টা ড. রেজাউল করিম, মো. মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, নাসির উদ্দীনসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা।
প্রতিযোগিতার বিচারকার্যে দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের গুলজারসহ মোট ২৮ জন বিচারক।
আয়োজকেরা জানান, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পবিত্র কুরআনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি, হিফজ বা কুরআন মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং কুরআনভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রায় এক হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কুরআনের আলোয় আলোকিত আগামী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।