আজ শনিবার ১৪ই মার্চ। ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ছিলো রোববার। এদিন সকালে ধানমণ্ডির বাসভবনে ন্যাপ নেতা আবদুল ওয়ালী খানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামারুজ্জামান।
লাহোরে আগের দিন ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত পশ্চিম পাকিস্তানের পাঁচটি পার্লামেন্টারি পার্টি নেতাদের সভায় দেশ থেকে সামরিক শাসন প্রত্যাহার, নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে দেশের শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর ও বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর গুলিবর্ষণের তদন্তের দাবি জানানো হয়। সভায় যোগ দেয় কাউন্সিল মুসলিম লীগ, কনভেনশন লীগ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও জমিয়তে ওলামায়ে পাকিস্তানের নেতারা।
সেদিন জারি করা ইয়াহিয়া খানের সামরিক ফরমানের প্রতিবাদে ঢাকায় মিছিল করেন প্রতিরক্ষা দফতরের বেসামরিক কর্মচারীরা। সম্পদ পাচার রোধের অংশ হিসেবে ঢাকার কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট বসায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ সারা শহরে মিছিল করে। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষের এই মিছিল প্রকম্পিত করে সারা চট্টগ্রাম শহর। আর ঢাকার পত্রিকাগুলো একটি যৌথ সম্পাদকীয় প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল- ‘আর সময় নেই’
করাচি নিশতার পার্কে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তৃতাকালে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের দাবি অনুযায়ী পার্লামেন্টের বাইরে সংবিধান সম্মত সমঝোতা ছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হলে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের পৃথকভাবে দুইটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে হস্তান্তর করা হোক। জাতীয় লীগ নেতা আতাউর রহমান খান অস্থায়ী সরকার গঠনের জন্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানান।
এদিন অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়ে সর্বসাধারণের উদ্দেশে এক দীর্ঘ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ ঐক্যবদ্ধ আপামর জনগণ সামরিক আইনের নিকট নতি স্বীকার না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কাজেই যাদের প্রতি সামরিক আইনের সর্বশেষ আদেশ দেয়া হয়েছে তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, তারা যেন কোনোপ্রকার হুমকির মুখে মাথা নত না করেন। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ তাদের ও তাদের পরিবারের পেছনে রয়েছে।