সরকারি দলের নজীরবিহীন মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নজীরবিহীন মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়েছে সংসদে। অতীতে কখনো সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের মুলতবি প্রস্তাব আনা হয়নি। আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, আমরা জুলাই সনদ মানি এবং তার বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু আমাদেরকে জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা সংবিধান মানি, জুলাই সনদ মানি, বাস্তবায়ন আদেশ মানি, গণভোট মানি, নির্বাচন মানি। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার করে এমন বিধান করা হোক যাতে ফ্যাসিবাদ কখনো ফিরে আসতে পারে না।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুকের জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি কি হবে সে বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের উপর আলোচনা হয়। এতে অংশ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার নাজিবুরর রহমান, ব্যারিস্টার আন্দলিব রহমান পার্থ, আকতার হোসেন, মীর হেলাল উদ্দিন।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুষ্টিমেয় একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী ছাড়া গোটা বাংলাদেশ সেদিন ছিল মজলুম। আর কারাগার ৬৪ জেলায় শুধু ৬৪ টা না, আর কাশিমপুরে আরও বাড়তি চারটা না, বরঞ্চ সারা বাংলাদেশটাই ছিল একটা কারাগার। কোনো কোনো সময় জেলের ভেতরে দীর্ঘ সময় থেকেছি, বছর দু বছর। এখানে অনেক সংসদ সদস্যবৃন্দ আমরা একসাথে ছিলাম। সেই সময় দেশের বিষয়-আশয় নিয়ে চিন্তা করতাম, নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতাম। ওই সময়টা আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ ছিল না, কোনো ডিভিশন ছিল না। আমরা সবাই ছিলামÑআমাদের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের পক্ষে, আমরা বাংলাদেশি। কিন্তু আশ্চর্য, এরপরের অধ্যায় দেখি এখন বদলে গেছে। আমরা একেকজনকে ঠেলে বিনা টিকেটে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাঠাইয়া দিই। টিকেট ছাড়া যাবে কেমনে? টিকেট নাই, ভিসা নাই, চলে যাও অমুক দেশে। আসলে এ ধরনের তৎপরতা আমি করলেও ওইটা অন্যায়, অন্য কেউ করলেও ওইটা অন্যায়। আমি এটার নিন্দা জানাই। এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সবই যদি অন্য দেশের দালাল হয়ে যায়, তাহলে এই দেশের নাগরিক হবে কে?
তিনি বলেন, আসুন ওই পথ আর দোষাদোষীর রেষারেষি ছেড়ে আমরা সবাই এই দেশের হই, জনগণ হই, দেশপ্রেমিক হই। আমি বিশ্বাস করি সকলের অন্তরে দেশপ্রেম আছে। এই অপচর্চাটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমি প্রথম দিনই মাননীয় স্পিকারকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যে এই মহান সংসদে আমরা যেন আর এখানে দাঁড়িয়ে কারো চরিত্র হনন করে একটা সেকেন্ডও নষ্ট না করি। এবং আমি আপনাকে অনুরোধ করেছিলাম আপনি এটা এলাউ করবেন না। আমি আবার আজকে এটা আপনাকে অনুরোধ করছি। এই সংসদ পরস্পরের চরিত্র হননের জন্য নয়। এই সংসদ জাতির দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য, আগামীর বাংলাদেশ, প্রত্যাশার বাংলাদেশ, যুব সমাজের বাংলাদেশ, মা-বোনদের জন্য, নারী সমাজের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ, শিশুদের জন্য বেড়ে ওঠার নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।
তিনি আরো বলেন, এই দেশটা যদি গড়তে হয়, তাহলে আমরা আবারও অনুরোধ করবÑযে গণভোটে আমরা সবাই রাজি ছিলাম, ‘হ্যাঁ’ বলতে আমরা সবাই মিলে এখানে ক্যাম্পেইন করেছি, আসুন কোনো বিতর্ক ছাড়াই ওই গণভোট আমরা মেনে নেই। ওই গণভোটের ডিরেকশন অনুযায়ী আমরা যে সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা, সংবিধান, আইন মানুষের জন্যেÑআমরা স্বীকার করেছি সবাই, সবকিছু আইন মেনে আজকের এই এখানে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়নি, এই পর্যায়ে আমরা এসে উপনীত হইনি। আমরা আইনের কমপ্রোমাইজ করেই এখানে এসেছি এবং কমপ্রোমাইজ করেছি আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে। যদিও সময়সীমা চলে গেছে, আমরা যদি মাইন্ড ওপেন রাখি, তাহলে আমরা মনে করি এখনো রাস্তা বের করা সম্ভব। সেটা কি হলো? সেটা যদি কোনো কিছু না হয়ে থাকে, তাহলে পেন্ডিং একটা বিষয়ে প্রস্তাব থাকা অবস্থায় আরেকটা মুলতবি প্রস্তাব আসতে পারে কিনাÑআমি এই কার্যপ্রণালী বিধি পড়ে এটা বুঝতে পারি নাই। যেহেতু আমি নবীন সদস্য, আমাকে একটু বুঝাইয়া দিলে আমি খুশি হবো। আদৌ এ ধরনের কোনো সুযোগ আছে কিনা? যদি না থাকে তাহলে এই প্রস্তাব এখানে আলোচনার কোনো দাবি রাখে না। আলোচনা হয়ে গেছে, আমরা এটা ফিরায় নিতে পারব না। কিন্তু আল্টিমেটলি আমি অনুরোধ করব, আমি বিশ্বাস করি এটার কোনো সুযোগ নাই, এটা যেন কগনিজেন্স-এ নেওয়া না হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন যদি আমরা সবাই সবকিছু মানি, তাহলে যে মানের ভিত্তিতে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির দুটো নির্বাচন করলাম, এর আগে তো আমরা কেউ বলিনি যে আমরা সংসদ নির্বাচন মানি না অথবা আমরা গণভোট মানি না। আমরা তো পার্টিসিপেটই করলাম। এখানে যারা আজকে আমরা আছি এই সংসদের ভেতরে মহান সংসদে, তারা সকলেই গণভোট এবং গণভোটের স্বপক্ষে কথা বলেছি।
তিনি আরো বলেন, আমি পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে জানতে চেয়েছিলাম যে সমস্ত অধ্যাদেশ এখানে আমাদের বৈধতা দেওয়ার জন্য, আইনগত রূপ দেওয়ার জন্য এসেছে, এ আলোচনা সেইটা কি না? প্রথমে মাননীয় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন না এটা সেইটা না। পরে বলেছেন না এটা এইটা। এরপরে আমরা আসলে সামনে পর্যাপ্ত কোনো কাগজ পাইলাম না, আমরা কোনো মত দিতে পারলাম না। এখন যে ব্যাপারে আমরা কোনো কাগজপত্র পাইলাম না, মত দিতে পারলাম না, এই সিদ্ধান্তগুলোর হাশর কী হবে আমি বুঝতে পারছি না। আমরা তো পার্টিসিপেটই করতে পারলাম না।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৪৭-এর পাকিস্তান আন্দোলনÑএসবগুলো একটা আরেকটার সম্পূরক। এই পর্যায়ে আমরা এসেছি কোনোটাকে অমান্য করে আসতে পারব না। আমরা শুধু ২০০৯ থেকে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা নির্যাতিত ও মজলুম ছিলাম না, বরঞ্চ প্রথম আঘাতটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। ওখান থেকেই ফ্যাসিজমের জন্ম। ক্ষমতায় না আসতেই তারা কী করবে ক্ষমতায় আসলে সেদিন অগ্রিম জাতিকে জানিয়ে দিয়েছিল। সারাদেশে দুই দিনে ৫৪ জন মানুষ শুধু জামায়াতে ইসলামী না, বিএনপিকেও সেই সময় নির্মমভাবে তাদেরকে খুন করা হয়েছে। পল্টন মোড়ে ছয়জনকে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যাই শুধু করা হয় নাই, তাদের লাশের ওপর উঠে নর্তন-কুর্দন করা হয়েছে। গোটা বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়েছিল, অবাক হয়েছিল সেদিনকার দৃশ্য দেখে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সংসদে আমি আগেও বলেছি যে এখানে আমরা সবাই মজলুম, বিভিন্নভাবে মজলুম। মজলুমের বাইরে এখানে কোনো সংসদ সদস্য আছেন আমি বিশ্বাস করি না। এটা মজলুমের মিলন মেলা আসলে। এই জায়গায় আমরা চাচ্ছি আগামীর একটা বাংলাদেশ এমন হোক যে বাংলাদেশে আর কোনো আইন এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই আমরা। এইজন্যই আমরা বলি যে একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। কোনো পদ-পদবি দলীয় পরিচয়, কোনো অন্যায় বা অপরাধ করেও যেন কেউ পার না পায় সেই বাংলাদেশটা আমরা চাই। এই বাংলাদেশ গড়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নমেন্টের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এইটা নিয়ে যে কমিটি হয়েছে তারা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছেন। আমরা আবারও দাবি করছি তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আমাদের সামনে আসুক। আমরা সেই রিপোর্টটি দেখে এখন থেকে বাকি যে বিলগুলো আসবে আইনাকারে বৈধতা দেওয়ার জন্য, আমরা আন্তরিকভাবে সেগুলোতে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং সরকারি দল বিরোধী দল মিলে আমরা আইনের একটা সুষ্ঠু কাঠামো গড়ে তুলতে চাই। আমরা এর বাইরে যেতে চাই না। এখানে আমাদের কোনো এইটা নিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাই, প্রতিযোগিতা নাই, বরঞ্চ এখানে সহযোগিতা থাকা দরকার। আমরা সেই সহযোগিতার মানসিকতা থেকেই প্রত্যেকটা আলোচনায় আমরা নিবিড়ভাবে, আন্তরিকভাবে, সজ্ঞানে আমরা অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা আশা করি আপনার মাধ্যমে এইটা পাব।
তিনি আরো বলেন, আমরা এই বাংলাদেশ অনেক দুঃখী মানুষের। মাননীয় আইনমন্ত্রী তিনি যথার্থই বলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আমি মামলার সঠিক সংখ্যা বলতে পারব না তবে হিউজ মামলা দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। আমি বলব শুধু বিএনপি না, সেই সময় বিরোধী দলে যারাই ছিলেন যতগুলো দল ছিল সবাই কিন্তু নির্যাতিত হয়েছেন। এবং আমাদের বিরুদ্ধেও হাওয়াই মামলা কম দেওয়া হয় নাই। নেত্রকোনায় একটা বাড়িতে বাপ-বেটা বসে ভাত খাচ্ছিল, তাদেরকে ধরে এনে বলেছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সেডিশন মামলা তাদের বিরুদ্ধে দিয়েছে। এটা শুধু আমাদের বিরুদ্ধে না, এটা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে আপনারা মাঝে মাঝে সরকারের হয়তোবা কিছু পারমিশন পেয়েছেন সরকারি দল এখন যারা আছেন। আমাদেরকে তো কোনো পারমিশনই দিত না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যা নিয়ে পেরেছি আমরা রাস্তায় নেমেছি। অন্যায়ের অপকর্মের আমরা প্রতিবাদ করেছি, জুলুমের প্রতিবাদ করেছি। আমরা যখন এই ধরনের কোনো কর্মসূচিতে নামতাম আমরা ধরে নিতাম যে আজকে আরও দুই-চারটা মামলা হবে, আজকে আরও কিছু লোক আমাদের চলে যাবে ওদের হাতে এবং তাদের ওপর বর্বর আক্রমণ চালানো হবে। সেটা হয়েছে। আমি এই জন্য শুধু রাজনৈতিক দল না, আলেম-ওলামা... ঘর-কারাগার ৬৪ জেলায় ৬৪টা হাত আর কাশিমপুরে আরও বাড়তি চারটা হাত। বরঞ্চ সারা বাংলাদেশটাই ছিল একটা কারাগার। কোনো কোনো সময় জেলের ভিতরে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তিনি সেই সময় সরকারের অপকর্মের দলিল তুলে ধরতেন। জাল মিটিয়ে তার বোনটাকে ধরে নিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের মূলনীতি এবং আর্টিকেল এইট-এ (অৎঃরপষব ৮) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে গ্রহণ করেছিলেন। এই দুটোই দুই জায়গা থেকেই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মমভাবে তুলে দিয়েছে। আমরা এটা পুনর্বহাল চাই। এগুলো হুকুমত কমিশনের এ গঠিত জুলাই সনদে থাকতে পারত। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের আপত্তি ছিল তারা রাখেনি। এইজন্যই আমি আমার পরের বক্তব্য বলব, এখানে আসছি। বিরোধী দল সংস্কার চায় সংবিধানের। সংশোধনী চায়। পুনর্লিখিত সংবিধান কেউ কেউ চেয়েছিল যারা বিদেশ থেকে আমদানি হয়েছিল বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবসহকারে। আমরা বলেছিলাম রিরাইটিং অব কনস্টিটিউশন (জবৎিরঃরহম ড়ভ ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ), নিউ কনস্টিটিউশন (ঘবি ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ), গণপরিষদ এগুলো একই কথা যে সংবিধানে আমরা যা কিছুই সংশোধনী চাই, গ্রহণ করতে চাই সেটা আমরা সংশোধনীতে আনি। তাল দফ করিয়া পড়িল নাকি পড়িয়া দফ করিল এক কথায় মাননীয় স্পিকার। সংশোধনীতে আমরা চাই।
তিনি বলেন, এখন প্রস্তাবনার মধ্যে অনেকে প্রস্তাব করেছিলেন সংবিধানের প্রস্তাবনায় যে ৭১ এবং ২৪ কে বরাবর করে আমরা প্রস্তাবনায় নিয়ে আসি। স্পিকার, বাংলাদেশের জনগণের এ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিজয় গাথা। ৭১-এর সাথে আর কোনো কিছুর তুলনা চলে না। আমরা ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ এবং জুলাই ঘোষণাপত্রের এসেন্সকে (ঊংংবহপব) আমরা সংবিধানে ধারণ করার জন্য অঙ্গীকার করেছি। করব চতুর্থ তফসিলে এ কথা জুলাই ঘোষণাপত্রও আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদও বলেছি। অঙ্গীকারনামায় দেখেন শেষের পৃষ্ঠায় আছে এই জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার।
তিনি বলেন, আমি কনসেন্ট্রেশন দিতে চেয়েছিলাম অনলি জুলাই জাতীয় সনদ যেটা ঐতিহাসিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার পথ সুনির্দিষ্টকরণে। চলুন সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করি। প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত একটা বিশেষ কমিটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হোক সবাইকে নিয়ে যারা এখানে রিপ্রেজেন্ট করছে জাতীয় সংসদে এবং স্বতন্ত্রসহ। সেই বিষয়ে তারা মনোযোগ দিলেই পারতেন। আজকে অবশ্য মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতারা অনেক গঠনমূলক কথা তারা বলেছেন। সরকার এবং বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করুক। রাস্তা খুঁজে বের করুন সংবিধান সংশোধন এবং আইন প্রণয়নের জন্য। ওয়েলকাম জানাই, স্বাগত। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন চায় তারা প্রত্যেকে বলেছেন। অর্ডারের কথা মেলা মেলাভাবে অগোছালো অর্ডার ইত্যাদি বলেছেন। সেটাও আলোচনা করব আমরা যদি সংবিধান সংশোধনী কমিটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় সেখানে। চলুন এখানেই মিলেমিশে আমরা আলোচনা করে বের করি।
তিনি আরো বলেন, সংস্কার সংবিধান হয় না মাননীয় স্পিকার। সংবিধান হয় রহিত হয়, স্থগিত হয়, সংশোধন হয়, বাতিল হয় ইত্যাদি হয়। সংক্ষেপে আমরা সংস্কার মনে করি যদি একই সাথে হতে পারে। যাই হোক মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন সংবিধান সংস্কারের কথা। আপনি রেকর্ড দেখতে পারেন। তো সংবিধান পরিবর্তন তো সংশোধনীর মাধ্যমে হতে পারে। আসুন তিনি বলেছেন জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানের কলিজা না কি পুষ্টি। ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেউ কেউ তো যুক্ত করেছেন। গণঅভ্যুত্থান জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থান এটা স্বীকৃত জুলাই জাতীয় সনদের সমস্ত জায়গায়। এখানে বিপ্লব শব্দ লেখা নেই। আর যে বিপ্লবের কথাানো কানে বিপ্লব নামগন্ধ নেই কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করব আমরা কি ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান করতে চাই? আসুন এখানে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। যে অভিপ্রায় দোহাই দেওয়া হচ্ছে আমি সংবিধানের প্রস্তাবনার কথা বলব। সংবিধানের প্রস্তাবনা চতুর্থ প্যারাডায় আপনি দেখবেন এই সংবিধান জনগণের অভিপ্রায় হিসেবে প্রাধান্য পাইবে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ আপনি দেখবেন এই সংবিধান জনগণের লেখা আছে যে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই ক্ষমতার প্রয়োগ হবে এই সংবিধানের প্রদত্ত অধীনে ক্ষমতা জনগণ যেভাবে চায়। আরেক জায়গায় আপনি দেখবেন এই সংবিধান হচ্ছে সুপ্রিমেসি অব দ্য কনস্টিটিউশন আপনি দেখবেন যে এই সংবিধান হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। এক জায়গায় কোনো বিপ্লব নামগন্ধ নেই কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করব আমরা কি ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়..। এটি সংবিধানে অর্ন্তভূক্ত হয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে। তারা জুলাই সনদ মানেন বলেও জানান।
জুলাই সনদে ‘ডট’ বসিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে: আকতার হোসেন
জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য ছাড়াই একটি বিশেষ ‘নোট’ বা ‘ডট’ অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন। তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে কারা ছিল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথরেখা নিয়ে সরকারি দলের (বিএনপি) বর্তমান অবস্থানকে ‘শঠতা’ ও ‘স্মৃতিবিস্মৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
আকতার হোসেন বলেন, ‘১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে ঐকমত্য কমিটি আমাদের যে খসড়া দিয়েছিল, তাতে কোনো ডট বা বিশেষ নোট ছিল না। কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী একটি নোটের কথা বারবার বলছেন। নোটটি হলোÑ কোনো দল ম্যান্ডেট লাভ করলে তারা সেই মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এই নোট নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি। কোনো এক ব্যক্তি বা দল সংসদ প্লাজার সামনে এসে নিজেদের মতো করে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে যাতে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা যায়। আমি তদন্ত দাবি করছি, এই ডটটি কারা অন্তর্ভুক্ত করেছিল।’
বিরোধী দলীয় এই এমপি বলেন, ‘৩১ জুলাই ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সব ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়েছে। সেদিন বিএনপিও সেখানে ছিল। অথচ আজকে তারা ব্যাকস্পেসে গিয়ে পেছনের দিকে ফিরে যেতে চায়। সংস্কারের ঘোড়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এখন সরকারি দল তাকে লাগাম পরানোর চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাঁচটি ধাপ রয়েছেÑ সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সরকারি দলের সদস্যরা এখন গণভোট বা সংস্কার পরিষদের কথা বলেন না, তারা শুধু জুলাই সনদের কথা বলেন, যা তাদের অনুকূলে।
সরকারি দলীয় এক সদস্যের ‘কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল’ (আধা-সাংবিধানিক) মন্তব্যের সূত্র ধরে আকতার হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশ একটি এক্সেপশনাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা সংবিধান পুরোটা মানতেও পারিনি, ছাড়তেও পারিনি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগÑ কোনোটিই প্রচলিত সংবিধানের ভিত্তিতে হয়নি, হয়েছে জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে। সেই অভিপ্রায়কে টেকসই করতেই জুলাই সনদ আদেশ জারি করা হয়েছে।’
গণভোটের বিরোধিতা করায় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণভোটে উচ্চকক্ষ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের যে নতুন ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে, বিএনপি সেগুলো মানতে চায় না বলেই আজকে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলে এখন বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তা তাদের দলগত শঠতাকেই প্রকাশ করে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইডিয়া গণপরিষদ ও সংসদের বিকল্প হিসেবে ঐকমত্য কমিশনে সব দলের সম্মতিতে এসেছিল। প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও নূরুল হক নূরও এর পক্ষে ছিলেন।
সবশেষে তিনি জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য স্পিকারের কাছে বিনীত আহ্বান জানান।