আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছে মৌসুমি বায়ু। এই কারণে আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি পড়ছে মাটিতে। আবার এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আর্দ্রতা। আর এসব কারণেই ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে দেশ। কোথাও মৃদু, আবার কোথাও বেশি। সে সময় শুধু দেশ পুড়েনি। পুড়েছে মাঠের ফসলও। সবাই বলেছে, ভ্যাপসা গরম। এই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। রোদের তাপে তেঁতে উঠেছে প্রকৃতি। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা এই তাপপ্রবাহে পুড়ছে পুরো জেলা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটেখাওয়া শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা ও সন্ধা ৬টায় জেলা আবহাওয়া অফিস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৬ ও ৩৬ শতাংশ। এটি এ বছরে জেলা ও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৪ শতাংশ। এটিও ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আগের দিন বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাও ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী সোমবার থেকে তাপমাত্রা একটু কমতে পারে। এদিকে, তীব্র তাপপ্রবাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা বিপাকে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খেটেখাওয়া মানুষ। রোদের তাপে শহরের কোর্টরোড-বড়বাজার সড়কে পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে যাচ্ছে বলে জেনেছি।