• মার্কিন সেনা ও ইসরাইলী নিহত
  • নিজ নাগরিকদের তুরস্ক ত্যাগের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: ইরানী বাহিনী নতুন করে কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরান ও লেবানন ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় মার্কিন সেনা ও ইসরাইলী নিহত হয়েছে। ইরানের আকাশ সীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে আবার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান। এ ছাড়া নিজ নাগরিকদের তুরস্ক ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন, মেহের নিউজ, আল জাজিরা, বিবিসি, এএফপি, এপি।

কাতার সৌদী ও আমিরাতে মুহুর্মুহু হামলা

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দশম দিনে গড়ালো। এতে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে আহত হয়েছে শত শত ইরানি। ইসরাইল-মার্কিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার জেরে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। দেশটি ইসরাইল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী নতুন করে ফের কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে।

প্রায় চার ঘণ্টা আগে কাতারকে লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এসব মিসাইল ভূপাতিতের দাবি করেছে কাতার। আল জাজিরার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা দোহার আকাশে অন্তত ১২টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।

এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শেবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তেলক্ষেত্র খালি ছিল বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের উত্তরে দুইটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরব পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরান হামলা বন্ধ না করলে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। দেশটি জানিয়েছে, প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করলেও তার ধ্বংসাবশেষে ফুজাইরাহ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

ইসরাইলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান ও লেবানন

ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান ও লেবানন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমন্বিত এই হামলায় অধিকৃত এলাকায় অবস্থিত ইসরাইলের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর জবাবে ইরান ও তাদের মিত্ররা হামলা বাড়িয়েছে, ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

এদিকে সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকেও রকেট ছুড়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এতে যুদ্ধ একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায়।

ইসরাইলও নতুন করে হামলার ঘোষণা দেয়। ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে বলে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

সিএনএন জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা গেছে। বিমান হামলা হলে এমন আওয়াজ হয়।

ইসরাইলী সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণের উপশহরগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। পৃথক ভিডিওতে দেখা গেছে, বৈরুতের একটি হোটেলে আগুন জ্বলছে। হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বৈরুতে রাতে হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে।

বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে আজ হামলা হয়েছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না।

বাহরাইনের রাজধানীর কাছে ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, আহতদের সবাই বাহরাইনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী রয়েছে। তার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সি একজনের বয়স মাত্র দুই মাস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন শিশু রয়েছে, যাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চারটি ড্রোন দেশটির একটি বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন মরু এলাকায় ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।

কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায় সৌদী সফরে চীনের বিশেষ দূত

চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার লক্ষ্যে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন।

চীনের বিশেষ দূত বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিরাম চেষ্টা চালাতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

ঝাই জুন তার দেশকে রিয়াদের ভালো বন্ধু ও অংশীদার বলে বর্ণনা করেন। সফরকালে তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ঝাই জুন বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও সামরিক নয়- এমন লক্ষ্যবস্তুতে যেকোনো হামলার নিন্দা করা উচিত।

চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার বিষয়ে বেইজিংয়ের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন ঝাই জুন।

সৌদি আরবে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনা

সৌদি আরবে ইরানি হামলায় আহত এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দেশটিতে অবস্থানরত তাদের জরুরি কাজে নিয়োজিত নন এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

গত ১ মার্চ সৌদি আরবে চালানো ইরানি হামলায় ওই মার্কিন সেনা আহত হয়েছিলেন। পরে গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স রোববার জানিয়েছে, আল-খারজ গভর্নরেটের একটি আবাসিক এলাকায় সামরিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিহত দুজনের বাইরে আহতদের সবাই বাংলাদেশি প্রবাসী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম হতাহতের ঘটনা।

ইসরাইলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরাইলী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল এ খবর জানিয়েছে।

ইসরাইলের উদ্ধারকারী সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের দুটি পৃথক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংস্থাটির মতে, হামলায় গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এমডিএর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যাঞ্চলের একটি নির্মাণাধীন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৪০ বছর বয়সি দুই ব্যক্তি আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্যজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে অপর একটি স্থানে ৩০ বছর বয়সি এক যুবক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্রাপনেলের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এবারের হামলায় ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের জনবহুল এলাকায় সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রথম সারির উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বাহরাইনে ড্রোন হামলায় ৩২ জন আহত

বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি।

গতকাল সোমবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আহতদের সবাই বাহরাইনের নাগরিক। হামলায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী রয়েছে, যার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

এ ছাড়া আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সি এক শিশু রয়েছে, যার বয়স মাত্র দুই মাস। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই আকস্মিক হামলা বাহরাইনের জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত ৩২ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে যাদের জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। বর্তমানে তাদের স্থানীয় বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ড্রোনের আঘাতে বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাহরাইন সরকার এই ঘটনাকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং হতাহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো আসছে, তবে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একে সরাসরি ইরানি ড্রোন হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে নতুন করে সামরিক মেরুকরণ ও সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাহরাইনের সেনাবাহিনী বর্তমানে রাজধানী এবং এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং যেকোনো ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে বাহরাইনের জননিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং গোয়েন্দারা হামলার সঠিক গতিপ্রকৃতি উদ্ঘাটনে কাজ করছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ড্রোনটি কীভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর বাহরাইনের সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তিনটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি

ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে আবারও মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি।

সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট তিনটি এমকিউ-নাইন ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ড্রোন দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের জাম এবং খোরমোজ জেলায় এবং তৃতীয় ড্রোনটি রাজধানী তেহরানের আকাশে ধ্বংস করা হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশটির সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনগুলোকে ট্র্যাক করার পর সফলভাবে আঘাত হানা হয়।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ

নিজ নাগরিকদের তুরস্ক ত্যাগের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে নিজ নাগরিকদের চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটির আদানায় অবস্থিত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ঘাঁটির কাছাকাছি মার্কিন কনস্যুলেট থেকে সব কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে ওই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ত্যাগ করার জন্য নিজ নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদানার গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য সব কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, ‘‘নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর আদানার কনস্যুলেট জেনারেল থেকে জরুরি প্রয়োজন নেই; এমন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।’’

একই সঙ্গে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, ‘‘তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এখনই এলাকাটি ত্যাগ করার জন্য জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’

এর আগে, গত বুধবার ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করে আঙ্কারা। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমায় ধ্বংস করেছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘‘ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল; যা ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেটিকে শনাক্ত এবং আঘাত হেনে অকেজো করে দেয়।’’

জোটের মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ‘‘আমরা তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের নিন্দা জানাই। অঞ্চলজুড়ে ইরানের এমন নির্বিচার হামলার মুখে তুরস্কসহ সকল মিত্র দেশের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে ন্যাটো।’’

তিনি বলেন, ‘‘আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রেই আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।’’

সূত্র: এএফপি।

নতুন নেতার সমর্থনে ইরানে ব্যাপক শোভাযাত্রা

আল জাজিরা

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে শূন্যতা বিরাজ করছিল। ১০দিনের মাথায় নতুন নেতা পেয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন কাণ্ডারি ঘোষণা করেছে দেশটির পণ্ডিতদের পরিষদ।

এতে ইরানের সরকার, প্রশাসনসহ সব স্তরে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আলাদাভাবে মোজতবাকে স্বাগত জানাচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী ও বিভাগের কর্মকর্তারা। বাদ যাচ্ছেন না সাধারণ নাগরিকরা।

যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির কারণে সরাসরি নতুন নেতার সঙ্গে দেখা করতে না পারলেও আজ সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানী তেহরানে জড়ো হয়ে মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইরানিরা। তারা নিহত খামেনি ও নতুন নেতার ছবি হাতে মিছিলে শরিক হন এবং শাসকদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নানা স্লোগান দেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। তার সঙ্গে স্ত্রী, মেয়ে, নাতনিসহ পরিবারের বেশ কয়েক সদস্য আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে আলী খামেনির স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। তবে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি।