ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী জেরার জবাবে জানিয়েছেন, আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি।
গতকাল সোমবার জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামীপক্ষের জেরায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে তাকে জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
আইনজীবীর জেরার প্রশ্নে আযমী জানান, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পর সরকারের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেছিলেন তিনি। তবে এ মুহূর্তে রিট নম্বর মনে নেই তার। ওই মামলা ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রুল ইস্যু করা হলেও পরে একক বেঞ্চে রুল শুনানি করে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি। বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে অবসর প্রদানের আদেশে কে স্বাক্ষর করেছেন তা মনে নেই। বরখাস্তের আদেশ বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো আবেদনও করিনি।
গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কি না প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলে জবাব দেন আযমী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে গুমের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেছিলাম। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।
গুমের জন্য সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার আযমী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। জবাবে তিনি দাবি করেন, এমন কোনো ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি।
এসময় গুমের পর আযমীকে রাখা কক্ষের বর্ণনা জানতে চান আসামীপক্ষের আইনজীবী। একই সঙ্গে এসি কক্ষে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
জবাবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমাকে যে কক্ষে বন্দি রাখা হয়েছিল তার বর্ণনা আমি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে দিয়েছি। ওই কক্ষের আয়তন ২১-১৭ ফুট। এসি লাগানো হয়েছিল ২০২৩ সালের ৮ জুন।
এ বর্ণনা দিতে গিয়ে আযমী বলেন, ২০২৩ সালের ৬ জুন আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর এসিবিহীন কক্ষে ছিলাম। তারা বলতো আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। জেরা শেষ না হওয়ায় প্রথমার্ধের পর বিরতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন তার আইনজীবী। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় চতুর্থ দিনের মতো আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন প্রথমেই ২০২৪ সালের ২৭ জুলাইয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরে দেওয়া ইনুর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয় ট্রাইব্যুনালে।
ভিডিও প্রদর্শন শেষে মুনসুরুল হক বলেন, এ ভিডিওতে কোনো বিদ্বেষমূলক কথা বলেননি হাসানুল হক ইনু। আওয়ামী লীগ সরকার বা কাউকে সমর্থন করেও বক্তব্য দেননি। তিনি যার যেমন ব্যর্থতা বা ভুল ছিল, সব তুলে ধরেছেন। এটা অপরাধ হতে পারে না।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদার ও মঈনুল করিম।
এর আগে, রোববার (১২ এপ্রিল) তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলেই করবে প্রসিকিউশন। এরপরই মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে।
এদিকে, গতকাল সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তার উপস্থিতিতেই চলে যুক্তিতর্ক।