আজ ১৬ মার্চ সোমবার। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ ছিল মঙ্গলবার। অসহযোগ আন্দোলনের নবম দিনে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেখ মুজিব একটি সাদা গাড়িতে চড়ে বৈঠকে যান। গাড়ির সামনে ছিল কালো পতাকা। গাড়ির উইন্ডো শিল্ডে বাংলাদেশের মানচিত্র ও একটি পতাকার প্রতিকৃতি লাগানো ছিল। প্রেসিডেন্ট ভবনের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন। এর আগের দিন ইয়াহিয়া বাংলাদেশে আসেন ঠিকই কিন্তু বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।

১৬ মার্চ নিউজউইকে পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণাই করলেন। জনৈক এক পাশ্চাত্য কূটনীতিবিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদক লোরেন জেনকিনসে লিখেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবে ইহা কোনও প্রশ্ন নয় বরং পরিস্থিতি হঠাৎ এতদূর গড়াইয়াছে যে, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল কী পরবর্তী সপ্তাহে কিংবা আগামী মাসে অথবা দুই বৎসর পর বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িবে ইহাই প্রশ্ন।’

এদিন জামালপুরে হাজার হাজার লোকের লাঠি ও নানান দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল হয়। সংবাদ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ঘটনাবহুল মার্চের ১৬ তারিখ, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত তার ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে সমস্ত বিদেশি বিমানের পূর্ব পাকিস্তানে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিমানেযোগে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য পরিবহন বন্ধ করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বুদ্ধিজীবীদের সভায় আবুল ফজল, সৈয়দ আলী আহসান, ড. আনিসুজ্জামান প্রমুখ অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এদিন সাতক্ষীরায় মিছিলে গুলী চালিয়ে মানুষ মারা হয়, দেশের মানুষকে অনাহারে মারার চক্রান্ত করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা চার জাহাজ বোঝাই গম চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না করে করাচি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এগুলো এসেছিল ত্রাণ হিসাবে।

এদিন দেশের সর্বত্র উড়ছে কালো পতাকা। মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। সব বয়স সব পেশা ও শ্রেণির মানুষ বেরিয়ে আসতে থাকে রাজপথে। রাস্তায়, মাঠে ময়দানে তখন গণসংগীত, নাটক, পথনাটক ও পথসভা করে চলছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংসদ, মহিলা পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন। হাইকোর্টের আইনজীবী, বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করতে থাকে।